বাসস
  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৫

আইন পেশার মান উন্নত করতে চাই: আইনমন্ত্রী

আজ সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাবর্তন এবং পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা আইন পেশার মান উন্নত করতে চাই। আমরা এমন আইনজীবী চাই যারা বাংলাদেশের জন্য অবদান (কন্ট্রিবিউট) রাখতে পারেন।

আজ সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস (এজিও) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উদ্যোগে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাবর্তন এবং পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই ‘যার নেই কোন গতি সে করে উকালতি’- এই ধারণা থেকে মানুষকে বের করে আনতে। আমরা এই (আইন) পেশার মান উন্নত করতে চাই।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি পরশুদিন পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশের একজন সিনিয়র জাজ ছিলেন , উনি উকালতিতে ফিরে এসেছেন। মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা নিয়েছেন রায় লিখে দেওয়ার জন্য। তাও টাকাটা চেকে নিয়েছেন উনার নামে। মক্কেলকে রায় নিয়ে দিতে পারেননি। টাকাও ফেরত দেননি। মক্কেল সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট বারে অভিযোগ  করেছেন। আমরা এরকম আইনজীবী চাই না। এরকম নীতি কথা বলার আইনজীবী চাই না। আমরা চাই এমন আইনজীবী যারা বাংলাদেশকে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। আর বার কাউন্সিলের পরীক্ষাকে কিভাবে আরো বেশি যুগোপযোগী করা যায় সেটি করতে হবে।’

একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী প্রজন্ম যাতে তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এবং সততা ও সাহস দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

সংসদ সদস্যদের (এমপি) গবেষণা কাজের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন করে ইন্টার্ন দেয়া যায় কি-না সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ন্যায়বিচার ও আইনি উৎকর্ষের অগ্রগতির জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসাথে কাজ করলে কি অর্জন হয় এই কর্মসূচিটি তার একটি প্রমাণ।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এগুলোই একজন আইনজীবীর বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার শক্তি কেবল প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরই নির্ভর করে না, বরং এর মধ্যে যারা কাজ করেন তাদের চরিত্র এবং যোগ্যতার উপরও নির্ভর করে। আমাদের আগামী প্রজন্ম সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সে প্রত্যাশা করছি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপি'র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লাইনাস র‌্যাগনার উইকস।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীসহ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম শেষ করা প্রথম ব্যচের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান ও নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করানো হয়।