শিরোনাম

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আজও মানুষের ঢল নেমেছে।
আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত তাঁর সমাধিতে সকাল থেকেই ফুল হাতে জড়ো হন বিএনপি নেতাকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন, কেউ চোখের জল আটকে রাখতে না পেরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। প্রিয় নেত্রীর স্মৃতিচারণ করেন অনেকে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাধিস্থল পরিণত হয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মিলনমেলায়।
সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় চিরদিন লেখা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নারী, যিনি একজন গৃহবধূ থেকে দেশের কোটি কোটি মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে। তিনি গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।
দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হারিয়ে দেশের মানুষ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। আজ বাংলাদেশের জনগণ তাঁর অভাব গভীরভাবে অনুভব করছে।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। জনগণের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় তাঁর ভূমিকা আজও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিএনপির ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন পুরো বাংলাদেশের আইকন। ২০ কোটি মানুষের প্রাণের স্পন্দন ছিলেন তিনি। তাঁকে হারিয়ে পুরো দেশ এখনও শোকাহত।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বাসসকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা এক নারী সমর্থক আবেগভরা কণ্ঠে বাসসকে বলেন, ‘তিনি আমাদের কথা বলতেন, আমাদের কষ্ট বুঝতেন। আজ তাঁর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, পরিবারের একজনকে হারালাম।’
শ্রদ্ধা জানাতে আসা তরুণ নেতা রবিন হোসেন বাসসকে বলেন, ‘আমি রাজনীতির অনেক কিছু তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি। আজ সাধারণ মানুষ তাঁর অভাব অনুভব করছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।
প্রিয় নেত্রীর সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের চোখে-মুখে আজও স্পষ্ট—এই বিদায় শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীর নয়, এটি একটি সময়, একটি সংগ্রাম ও একটি আদর্শের বিদায়, যা চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।