শিরোনাম

মোশতাক আহমদ
ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): যাত্রী সেবার মান বাড়াতে সরকার রেলখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, সেবার মান বাড়াতে দেশের রেলব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
আজ বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রেলখাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ এলে সেবার মান ও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, তবে তদারকি সরকারের হাতেই থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে রেলকে ধীরে ধীরে ব্রডগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রেলখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান লাইনের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান সেবার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে জনগণ দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে সেবা পেতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রেলে লোকোমোটিভ (রেলের ইঞ্জিন) সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মিটারগেজ ও ব্রডগেজের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে আরও প্রকট হয়। অনেক ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সেগুলো মেরামত করে চালাতে হচ্ছে।
রেলের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে আয়-ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ‘এক টাকা আয় করলে দুই টাকা খরচ হয়’-এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ভবিষ্যতে রেলকে আরও দক্ষ ও লাভজনক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
রেলের অব্যবহৃত ও বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কথাও জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব জমি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বনায়ন বা অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে এসব জমি কাজে লাগানো হতে পারে।
সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু আধুনিক ট্রেন বা কোচ সংযোজন করলেই হবে না, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং কর্মীদের আচরণেও উন্নতি আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে জিএম ও ডিআরএমদের নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু চালক বা গার্ড নয়, সংশ্লিষ্ট সব স্তরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এতে করে দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জে রুটে ডেমু ট্রেন চালু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ খাতে নতুন করে সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেই। তবে বেসরকারিভাবে কেউ আগ্রহী হলে তা বিবেচনা করা হতে পারে। সার্বিকভাবে রেলকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।