শিরোনাম

ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই কর্মীকে ‘অলৌকিকভাবে’ জীবিত উদ্ধারের পর নতুন উদ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে নেপালের জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো।
শনিবারও তারা ধ্বংসস্তূপের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ও বিশাল পরিমাণ পাথর ধসে চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় সুনামির মতো পানি ও কাদার ঢল নেমে আসে। এতে শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী নিখোঁজ হন। জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই কর্মীও তাদের মধ্যে ছিলেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছে ৫ হাজার ৫৩ জন।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে ৩১ জন মারা গেছে ও ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২৫ ও নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৮৪।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট শনিবার এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’
শুক্রবার যে ত্রিশুলি-৩ এ টানেল থেকে দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, সেখানেও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্থানে অভিযান চলছে। বন্যায় অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট বলেন, ‘টানেলগুলোতেও কাজ চলছে। এখনো নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে কাজ অব্যাহত আছে।’
সরকার প্রথম দিকে জানিয়েছিল, বিভিন্ন টানেলের ভেতরে ১০০ জনের বেশি কর্মী জীবিত থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।
উদ্ধারকারীরা দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। নয় দিন ধরে আটকে থাকার পর কাদায় পুরোপুরি মাখামাখি অবস্থায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলগুলোর ভেতরে জীবিতদের সন্ধানে নেপালের উদ্ধারকারী দলকে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করছেন।
এদিকে মর্গগুলোতে মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শনিবার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০টি লাশ গণকবরে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
ভবিষ্যতে স্বজনদের মাধ্যমে লাশ শনাক্ত করার জন্য এসব নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে বসবাস করা হাজার হাজার মানুষের জন্য ‘নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ত্রাণশিবিরে থাকা আপনাদের জন্য সহজ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা আবারও এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব, যেখানে আপনারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবেন।’