শিরোনাম

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : সুনামির মতো হিমবাহসৃষ্ট বন্যায় নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকায় ২ হাজার ৫০০টির বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব করেছে এএফপি।
কোপার্নিকাসের জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিষেবার পর্যালোচনা করা তিনটি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মোট ভবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও হিসাবে ধরলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০টির মধ্যে সাতটিরও বেশি। এতে বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রবল স্রোত উপত্যকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও বিদুর শহরের কিছু অংশ এই এলাকার মধ্যে রয়েছে। দুর্যোগের আগে এসব এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। নেপালের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর ভরতপুরের আশপাশের এলাকার ছবিগুলো সোমবার সকালেও পরীক্ষা করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয়ের একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
হিমবাহ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার নিচে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন গিরং সীমান্ত চৌকি অতিক্রম করে নেপালে প্রবেশ করে। ছোট সীমান্ত শহর তিমুরে ও এর আশপাশের এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এর ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্যাব্রুবেশি এলাকায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবন ধ্বংস হয়েছে। গ্রামটি বিখ্যাত লাংটাং ট্রেকের শুরুস্থান। হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও এই পথটি নিয়মিত ব্যবহার করেন।
আরও ভাটিতে, নুওয়াকোট জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র ও উদ্ধারকারী দলের ঘাঁটি বিদুরের আশপাশের নদী তীরবর্তী এলাকায় ১ হাজার ৮০০টির বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটি ধ্বংস হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি সড়ক ও সেতুও ধ্বংস হয়েছে। এতে ত্রাণ পৌঁছানো ও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।