বাসস
  ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০০

কিশোরদের সুরক্ষা সরঞ্জাম কার্যকর নয়, জানত মেটা: সাক্ষ্যে দাবি

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ইনস্টাগ্রামে কিশোরদের সুরক্ষায় মেটার ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়—এ কথা কোম্পানিটি জানত বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্যালিফোর্নিয়ায় চলা একটি মামলায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে প্ল্যাটফর্মটির ঝুঁকি সম্পর্কে মিথ্যা বলার অভিযোগ এনেছে।

অকল্যান্ড থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে মেটা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর জোটের অভিযোগ মোকাবিলা করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশুদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করে তুলতে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের পণ্য তৈরি করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে।

সোমবার মামলার দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুরিদের সামনে উপস্থাপন করা মেটার অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়, স্ক্রল করা বন্ধ করার জন্য ব্যবহারকারীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সুবিধা ‘টেক আ ব্রেক’ গ্রহণের হার ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর গভীর রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার ‘ কোয়ায়েট মোড’ গ্রহণের হার ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদে ইনস্টাগ্রামে মেটার পণ্য নকশা বিভাগের পরিচালক ফ্রান্সেস্কো ফোগু বলেন, তিনি এসব সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব সরঞ্জাম ডিফল্টভাবে চালু না থাকলে কোম্পানি ‘জানত যে ব্যবহারকারীদের গ্রহণের হার কম হবে।’

মঙ্গলবার রাজ্য আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ইনস্টাগ্রামের প্রোডাক্ট ডিজাইনের পরিচালক ফ্রান্সেসকো ফোগু বলেন তিনি সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে স্বীকার করেন যে কোম্পানি জানত—যখন টুলগুলো ডিফল্টভাবে চালু রাখা হয় না, তখন ব্যবহারকারীদের গ্রহণের হার কম হবে।

বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স, যিনি জুরির রায়কে নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করে মামলার সিদ্ধান্ত দেবেন, বিস্মিত হন যে ফোগু অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্পর্কে অবগত নন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা চাইবে, এবং আদালতে হেরে গেলে কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেলে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে এবং পুরো শিল্পে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

মঙ্গলবার রাজ্য আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ইনস্টাগ্রামের প্রোডাক্ট ডিজাইনের পরিচালক ফ্রান্সেসকো ফোগু বলেন তিনি সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে স্বীকার করেন যে কোম্পানি জানত—যখন টুলগুলো ডিফল্টভাবে চালু রাখা হয় না, তখন ব্যবহারকারীদের গ্রহণের হার কম হবে।

বিচারক ইয়ভন গনজালেজ রজার্স, যিনি জুরির রায়কে নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করে মামলার সিদ্ধান্ত দেবেন, বিস্মিত হন যে ফোগু অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্পর্কে অবগত নন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা চাইবে এবং আদালতে হেরে গেলে কোম্পানির ব্যবসায়িক মডেলে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে এবং পুরো শিল্পে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীর জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফোগু কয়েকবার আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।

মেটার সাবেক দুই কর্মীও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে ‘টেক আ ব্রেক’ ও ‘কোয়ায়েট মোড’ কার্যকর ছিল না।

মেটার সাবেক প্রকৌশল পরিচালক আর্তুরো বেহার গত সপ্তাহে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায়, ‘টেক আ ব্রেক’ এমন একটি সুবিধা, যা ব্যর্থ হওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।’

ইনস্টাগ্রামে ২০২২ ও ২০২৩ সালে নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে কাজ করা তথ্যবিজ্ঞানী জর্জ ভলিচেঙ্কো সোমবার বলেন, এসব সুবিধা গ্রহণের হার ছিল ‘খুবই কম ও হতাশাজনক।’ এটি ছিল ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো।’

তিনি বলেন, এসব সুবিধার ব্যবহার অর্থবহভাবে বাড়ানোর বিষয়ে মেটার নেতৃত্বের আগ্রহ ছিল না।

ভলিচেঙ্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, কম বয়সী কিশোরদের জন্য ‘কোয়ায়েট মোড’ ডিফল্টভাবে চালু করার অনুমোদন দেয়নি মেটার নেতৃত্ব। অ্যাপটিতে সেটিংটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় এর ব্যবহারও কম ছিল।

নিরাপত্তা সুবিধাগুলো ডিফল্টভাবে চালু করা হলে ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততায় ‘উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব. পড়ত ’বলেও তিনি জানান।

মেটার ব্যবসায়িক মডেলের মূল ভিত্তি বিজ্ঞাপন বিক্রি। ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় তাদের অ্যাপ ব্যবহার করেন, কোম্পানির আয়ও তত বাড়ে।

মঙ্গলবার বিকেলে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরিকে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।