বাসস
  ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৫

হিজবুল্লাহর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অর্থায়নে জড়িত একটি কথিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) সঙ্গে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেছে ওয়াশিংটন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আইনি পরিচয়ে সংশোধন এনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগঠনটি ‘ইরানি সরকারের স্বার্থে এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধীনে’ কাজ করে। বিশেষ করে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের অধীনে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ভূমিকা রাখছে, তখনই হিজবুল্লাহর পরিচয়ে এই পরিবর্তন আনা হলো। ইসরাইল ও লেবানন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এসব আলোচনার বিরোধিতা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হিজবুল্লাহকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। পরে ২০০১ সালে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে সংগঠনটির পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে হিজবুল্লাহ ইরানের একটি সহযোগী সংগঠন এবং এটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত কোনো সংগঠন নয়—আগের পরিচয় থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারত।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে হিজবুল্লাহ লেবাননের সার্বভৌমত্ব, জনগণ বা রাষ্ট্রের প্রতি খুব কমই গুরুত্ব দেয় বা কোনো গুরুত্বই দেয় না।

ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ গত মার্চে ইসরাইলের ওপর রকেট হামলা চালিয়ে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ। ওই হামলার পর ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসির কুদস ফোর্সের মধ্যে কার্যক্রম, অর্থায়ন ও রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যেভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, সেটিই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নিজেদের যেভাবে ‘লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন’ হিসেবে পরিচয় দেয়, সংগঠনটি আসলে তা নয়।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ১০ জনকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর কাছে নগদ অর্থ স্থানান্তরকারী একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমানে যাতায়াতকারী কুরিয়ারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ স্থানান্তর করে। এভাবে তারা বিভিন্ন দেশের মধ্যে কয়েক কোটি থেকে শত কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ সরিয়ে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে হিজবুল্লাহ বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার সুযোগ পায়।