শিরোনাম

ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ভারত ও জাপান সামুদ্রিক সহযোগিতাসহ নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে সম্মত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং তার জাপানি সমপক্ষ শিনজিরো কোইজুমি নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। পরে তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেন বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ভারত ও জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তথাকথিত কোয়াড নিরাপত্তা জোটের সদস্য। চীনের ভারত মহাসাগর ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষায় এ জোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ ধরনের সহযোগিতা শুধু জাপান ও ভারতের জন্যই নয়, বরং অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’ ভারত তার অভ্যন্তরীণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগে জাপানের আরও বেশি পুঁজি ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা চায়।
দুই মন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশটির উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নৌযান নির্মাণ ও নকশায় যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের সুযোগ খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুলাইয়ে তার জাপানি সমকক্ষ সানায়ে তাকাইচিকে আতিথ্য দেওয়ার পর কোইজুমির এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। ওই বৈঠকে দুই নেতা চীনের প্রাধান্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।
ওই বৈঠকের পর তাকাইচি বলেছিলেন, ‘জাপান ও ভারত অর্থনীতির সশস্ত্রায়ন এবং বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চাসহ’ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে ।
মোদির সঙ্গে তাকাইচির বৈঠকের পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ‘তৃতীয় কোনো পক্ষকে লক্ষ্য করা বা তার স্বার্থের ক্ষতি করা উচিত নয়, এমনকি একচেটিয়া গোষ্ঠী গঠন বা সংঘাত উসকে দেওয়ার অজুহাত হিসেবেও’ তা ব্যবহার করা উচিত নয়।