বাসস
  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৫

আর্কটিক হয়ে ইউরোপের পথে চীনা জাহাজ, সময় কমবে অর্ধেক

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনে আর্কটিক মহাসাগরের নতুন একটি নৌপথে যাত্রা শুরু করেছে চীনের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ। নতুন এই সাপ্তাহিক নৌসেবা চালু হলে চীন-ইউরোপের পণ্য পরিবহনের সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। 

তবে পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এ পথে জাহাজ চলাচল বাড়লে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার গতি আরও বাড়তে পারে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

‘দুবাই টাওয়ার’ নামের জাহাজটি শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগর নিংবো থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটি প্রথমে উত্তরের দিকে গিয়ে বেরিং প্রণালী অতিক্রম করবে। এরপর রাশিয়ার উত্তর উপকূলের হিমশীতল জলসীমা ধরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে।

শিপিং কোম্পানি সি লিজেন্ড প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, জাহাজটি আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর একই সপ্তাহে জার্মানির হামবুর্গ এবং পোল্যান্ডের গদিনিয়া বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চীন থেকে ইউরোপে যাওয়ার নর্দার্ন সি রুট (এনএসআর) সুয়েজ খাল হয়ে যাওয়ার তুলনায় অনেক দ্রুত। এ পথে লোহিত সাগরও এড়িয়ে যাওয়া যায়। লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তবে বছরের সব সময় এই পথে জাহাজ চলাচল করা সম্ভব নয়। সমুদ্রের বরফ যথেষ্ট গলে গেলে নির্দিষ্ট সময়েই মূলত বরফভাঙা জাহাজের সহায়তা ছাড়াই এই নৌপথ ব্যবহার করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এমনিতেই বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এ সংকট আরও বেড়েছে।

এর আগে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানি আর্কটিকের এই নৌপথ ব্যবহার করেছে। ডেনমার্কের মায়েরস্ক ২০১৮ সালে প্রথম এই পথে যাত্রা করা কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।

ব্যবসায়িক বীমা প্রতিষ্ঠান অ্যালিয়াঞ্জ কমার্শিয়ালের শিপিং বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর ২৩টি কনটেইনারবাহী জাহাজ এই নৌপথ অতিক্রম করেছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫টি।

পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্ষিপ্ত এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বাড়লে আর্কটিক মহাসাগরের সামুদ্রিক বরফ দ্রুত কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই মেরু অঞ্চলের বরফ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ফ্রান্সের সিএমএ সিজিএম, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এমএসসি এবং জার্মানির হ্যাপাগ-লয়েডসহ বড় কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ‘আর্কটিকের ট্রান্সশিপমেন্ট রুট এড়িয়ে চলবে।’

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আর্কটিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চীনের জন্য এর গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার বাড়াতে চীন ইতোমধ্যে ‘পোলার সিল্ক রোড’ নামে একটি পরিকল্পনা সামনে এনেছে।