শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়ার জবাবে ‘নতুন মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মোকাবিলায় এ মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ১১ দিনের এই মহড়া প্রতি বছরের গ্রীষ্মকালীন সামরিক কর্মসূচির নিয়মিত অংশ। পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়েই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
পিয়ংইয়ং বরাবরই এ মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে। এ সপ্তাহে দেশটি জাপান সাগরের ওপর দিয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে মহড়ার বিরোধিতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে এবারের মহড়া আগের বছরগুলোর তুলনায় ভিন্ন। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন হামলা, সাইবার হামলা এবং জিপিএস জ্যামিং সক্ষমতা মোকাবিলার প্রশিক্ষণও।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আসন্ন মহড়াটি গত পাঁচ বছরের মহড়াগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন। আাধুনিক যুদ্ধের নতুন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা রপ্ত করাই এর লক্ষ্য।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের ধারাবাহিক নীতি হলো, নতুন মাত্রার হুমকির জবাব নতুন মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়ে দেওয়া।’
পিয়ংইয়ংয়ের কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা চালানো শুরু করলে দেশটি ক্রেমলিনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি সহায়তার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার দুর্বল হয়ে পড়া যুদ্ধে সেনা পাঠিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, মস্কো একটি হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে অন্তত নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।
সম্প্রতি কিয়েভ আরও দাবি করেছে, রাশিয়ায় মোতায়েনের জন্য প্রায় ৫০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।
-যুদ্ধের অভিজ্ঞতা-
মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ বাহিনীর কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড এ সপ্তাহে বলেন, ইউরোপের যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের ফলে কোরীয় উপদ্বীপে তাদের সম্ভাব্য হুমকির ধরন বদলে গেছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেখানে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে গেছে। আমাদের প্রশিক্ষণে সেই হুমকিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনকে দিন সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই এই মহড়া চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।
‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনা অংশ নেবে। দেশটিতে থাকা ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার একাংশও তাদের সঙ্গে যোগ দেবে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, উস্কানিমূলক হুমকি দিলেও উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবারের বিবৃতির সুর তুলনামূলকভাবে সংযত।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বিবৃতির বিষয়বস্তু বিশেষভাবে উসকানিমূলক বা উত্তেজনাপূর্ণ নয়। এটি বেশ বাস্তবভিত্তিক।’
তিনি আরও জানান, পিয়ংইয়ং হয়তো ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগাযোগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখতে চায়।
২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। ওই বৈঠকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয়।
সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়েও সম্প্রতি ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া। টোকিও ‘জরুরি ও সংকটের মনোভাব’ নিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি।
তবে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কোরিয়া বিষয়ক প্রধান ভিক্টর চা বৃহস্পতিবার বলেন, কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারেন।