শিরোনাম

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : গত চার দশকে ব্রাজিলের ৮৫ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকার সমপরিমাণ প্রাকৃতিক উদ্ভিদভূমি হারিয়ে গেছে। এ আয়তন ফ্রান্সের দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
জুনে নিশ্চিত হওয়া এল নিনো আবহাওয়ার ধরণ বছরের শেষ দিকে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চল খরা, বন্যা ও দাবানলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রাজিলের ভূমি ব্যবহারের ওপর বার্ষিক গবেষণায় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক ম্যাপবায়োমাস জানায়, চার দশক আগে ব্রাজিলের ৭৯ শতাংশ ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ছিল। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশে।
রিও ডি জেনেইরো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক উদ্ভিদভূমি হারিয়েছে আমাজন বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেরাদো তৃণভূমি।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির বড় অংশ কৃষি ও পশুপালনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিলের ৩২ শতাংশ ভূখণ্ড কৃষি ও পশুপালনের আওতায় রয়েছে। ১৯৮৫ সালে এ হার ছিল ১৮ শতাংশ।
ম্যাপবায়োমাসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনোর সময় প্রাকৃতিক উদ্ভিদভূমির পরিবর্তে কৃষিজমিতে পরিণত হওয়া এলাকাগুলো চরম আবহাওয়ার প্রভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এবারের এল নিনোও একই মাত্রায় শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
ম্যাপবায়োমাসের সাধারণ সমন্বয়কারী তাসো আজেভেদো এএফপিকে বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালের এল নিনোর সময় আমাজনের বন উজাড় হওয়া এলাকাগুলো বনভূমির তুলনায় ‘বৃষ্টিপাতের আরও বড় ঘাটতির’ মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের তৃণভূমির কৃষি এলাকাগুলোতে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ থাকা এলাকার তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় রিও গ্রান্দে দো সুল রাজ্যে ২০২৪ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে প্রায় ২০০ মানুষ মারা যান।
আজেভেদো বলেন, ‘ভূমি ব্যবহারের ধরণ এল নিনোকে পরিবর্তন করে না। তবে এর প্রভাবকে বদলে দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এটি দেখায় যে ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ঝুঁকির মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশে এসব জলবায়ু ঘটনা কতটা তীব্র হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে।’
কৃষি এলাকাগুলোতে এল নিনোর প্রভাব কেন বেশি তীব্র হয়, তা গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়নি বলে তিনি জানান।
তবে তিনি বলেন, ‘একটি ধারণা হলো, আমাজনে বন উজাড়ের ফলে বাষ্পমোচন এবং স্থানীয় বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। এতে তাপমাত্রা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত কমে যায় এল নিনো এই প্রভাবের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।’
গত মাসে ব্রাজিল সরকার এ বছর ‘অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো’র সতর্কতা জারি করে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে পারে।
এ ধরণের উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণে বড় রকমের প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রাজিলিয়ান কনফেডারেশন অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইভস্টকও (সিএনএ) সতর্ক করেছে, ‘সুপার এল নিনো’ কফি, সয়াবিন ও চিনির মতো ফসলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।