শিরোনাম

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে পদ থেকে সরানোর জন্য নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এএফপির হাতে আসা হোয়াইট হাউসের একটি নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে জুনে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বাধা দিয়েছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ৫ আগস্ট কুককে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট আপনাকে আপনার পদ থেকে অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।’ ওই চিঠিতে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনোর স্বাক্ষর রয়েছে।
বন্ধকী ঋণের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য কুককে চিঠির তারিখ থেকে ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং কুক তা অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীনভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ফেডের সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন এবং গভর্নর লিসা কুককে পদ থেকে সরানোরও চেষ্টা করছেন।
কুককে পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১১১ বছরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের এমন প্রথম প্রচেষ্টা।
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নরদের ‘যেকোনো কারণে বা কোনো কারণ ছাড়াই’ বরখাস্ত করার ক্ষমতা নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে।
প্রেসিডেন্ট গভর্নরদের মনোনয়ন দেন এবং সিনেটের অনুমোদনের পর তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে ফেডের স্বাধীনতার গুরুত্বের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।
আদালত জানায়, তারা মামলাটি ‘সীমিত একটি আইনি ভিত্তিতে’ নিষ্পত্তি করেছে। কারণ, কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য আইনে যে প্রক্রিয়াগত অধিকার তাকে দেওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট তা অনুসরণ করেননি।
তবে আদালত কুকের বিরুদ্ধে আনা বন্ধকী ঋণ জালিয়াতির মূল অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
জুনের রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, কুকের বিরুদ্ধে তিনি ‘অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা’ নেবেন।
হোয়াইট হাউসের নতুন চিঠিতে কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অন্ততপক্ষে, এই আচরণ চরম অবহেলার প্রমাণ এবং এটি দেখায় যে আপনি এই পদে থাকার উপযুক্ত নন।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে চিঠিতে বলা হয়েছে, কুককে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। এ কারণে কুককে আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে অভিযোগগুলোর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী কুক শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কুক বলেন, ‘আমি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর হওয়ার কয়েক বছর আগে স্বাক্ষর করা বন্ধকী ঋণের নথিপত্র নিয়ে এই বিষয়টি কখনোই ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল একটি সাজানো অজুহাতের ভিত্তিতে আমাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা।
কারণ, আমি রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি এবং আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সুদের হার নির্ধারণ করে গেছি।’
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন কুককে বরখাস্তের নতুন পদক্ষেপকে ‘আবারও আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে নেওয়ার ট্রাম্পের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প যাতে সফল না হন, তা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটরা ‘প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে’।