শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুন, ২০২৬ (বাসস) : সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের আবার তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
গত সপ্তাহে প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধ ও একাধিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার ভিত্তিতে আলোচনার কাঠামো গড়ে ওঠে।
সুইজারল্যান্ড থেকে এএফপি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছতে ৬০ দিনের কারিগরি আলোচনা শুরুর শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আবারও সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য খুব ভালো ভিত্তি স্থাপন করেছি। চূড়ান্ত চুক্তি হলো একটি বাড়ির মতো আমরা এখনো বাড়িটি তৈরি করিনি, তবে একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করেছি।’
অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ইরানকে তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের সুযোগ দিতে ২১ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ‘মুক্ত ও নির্বিঘ্ন চলাচল’ নিশ্চিত করা এবং আইএইএ পরিদর্শকদের ইরানে ফেরার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু হয়নি এবং এখনো পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরু হয়নি।
ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান আইএইএ পরিদর্শকদের আবার দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে, যা তিনি ‘একটি বড় অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণের দিকে এটি প্রথম ধাপ।
ইরান ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর আইএইএ’র সঙ্গে কিছু সহযোগিতা স্থগিত করেছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশ সীমিত করেছিল। তবে নভেম্বর পর্যন্ত কিছু পরিদর্শন অব্যাহত ছিল।
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করার ইঙ্গিত দিলেও ভ্যান্স জানান, এখনো কোনো সম্পদ মুক্ত করা হয়নি।
তিনি বলেন, সম্ভাব্যভাবে এসব অর্থ মার্কিন পণ্য কেনায় ব্যবহার হতে পারে এবং তা ‘সন্ত্রাসে নয়, কৃষকদের সহায়তায় কাজে লাগবে।’
অল্প সময় পরেই মার্কিন ট্রেজারি ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ২১ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
আলোচনার অগ্রগতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। তবে রবিবারের পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।
মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানায়, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে ৬০ দিনের একটি ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত আলোচনা চলবে।
একটি যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালীতে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
একই সঙ্গে লেবাননে সংঘাত পুনরায় শুরু না হয় তা নিশ্চিত করতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক মাধ্যমে জানান, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল, অবরোধ প্রত্যাহার এবং কিছু জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পুনর্গঠন ও উন্নয়নের বড় পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনা শুরুর আগেই কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও সোমবারের মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেছে।
ইসরাইলি সামরিক প্রধান জানান, হিজবুল্লাহ এখন ‘কঠিন অবস্থায়’ রয়েছে, তবে তারা পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে পারবে না।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪,১০০ ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনায় ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয় এখনো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।