শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও শনিবার লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এসব হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
এছাড়া, হিজবুল্লাহর ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটির বাইরে রাজধানী বৈরুতের কাছাকাছি একটি মহাসড়কেও হামলা চালায় ইসরাইল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে তিন সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। শনিবারের হামলাগুলোকে যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের অব্যাহত হামলার জবাবে তারা উত্তর ইসরাইলে অন্তত দুই দফা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এতে একজন সেনা গুরুতর এবং আরও দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইল একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সাকসাকিয়েহ শহরে চালানো হামলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এক শিশুসহ সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সাকসাকিয়েহতে ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনার ভেতরে অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক হতাহতের খবর পর্যালোচনা করছে বলেও জানিয়েছে তারা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ শহরে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ইসরাইলি হামলায় এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম হামলার পর তারা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায় এবং বাবা নিহত হন। পরে ড্রোনটি তৃতীয়বার সরাসরি মেয়েটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বেদিয়াস শহরেও আরেক হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং ছয় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এর আগে সীমান্তবর্তী নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তারা জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। তবে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হওয়া দুটি স্থান ওই সতর্কবার্তার আওতায় ছিল না।
এনএনএ আরও জানায়, বৈরুতের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাদিয়াত মহাসড়কেও ইসরাইল দুটি হামলা চালিয়েছে। পরে একই এলাকায় আরও একটি হামলার খবর পাওয়া যায়।
ওয়াশিংটনের প্রকাশিত লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান আক্রমণ’ প্রতিহত করতে আত্মরক্ষার স্বার্থে ইসরাইল সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হিজবুল্লাহর ৮৫টির বেশি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সীমান্তঘেঁষা লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরেও তাদের সেনা মোতায়েন রয়েছে।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ শনিবার বলেন, ‘এখন সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রতিরোধ আন্দোলন (হিজবুল্লাহ) ২ মার্চের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে রাজি নয়।’
গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই লেবানন এ আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এর আগেও ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল নিয়মিতভাবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
শনিবার হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, উত্তর ইসরাইলে ড্রোন হামলার পাশাপাশি লেবাননের ভেতরে ইসরাইলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করেও রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।
আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এ ধরনের আলোচনাকে ‘একের পর এক ছাড় দেওয়ার কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২ মার্চের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।