বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২

ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না: ইরান 

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তারা কোথাও হস্তান্তর করা হবে না বলে শুক্রবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

খবর বার্তাঘায়িস্থা এএফপি’র।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি কখনও আলোচনায় তোলাই হয়নি।’

শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে দাবী জানান,‘আমাদের শক্তিশালী বি-২ বোমারু বিমান দ্বারা সৃষ্ট সব ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।’ তিনি মূলত গত বছরের মার্কিন হামলায় ভূগর্ভে চাপা পড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কথাই এভাবে উল্লেখ করেন।

তবে বাঘায়ি জানান, সাম্প্রতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সংঘাত অবসানের পথ খোঁজাই ছিল মূল লক্ষ্য, ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার নয়। 

তিনি বলেন, ‘আগের আলোচনাগুলোতে পারমাণবিক ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছিল। এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ অবসান। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার পরিসর আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ১০ দফা পরিকল্পনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার যে কথা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত অনলাইনে নয়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অন্য পক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দিতে হয়, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তা ভালোই জানে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে আরও বলেন, ‘যেটিকে তারা নৌ অবরোধ বলছে, তা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান এটির উপযুক্ত জবাব অবশ্যই দেবে।’ 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন প্রচারের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। সেই পরিকল্পনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের জব্দ করা ২শ’ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।

তেহরানের কাছে এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি। এ ছাড়া ২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও মজুত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে আরেকটি উদ্বেগজনক সীমা হিসেবে বিবেচিত।

২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যমতে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে; যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার অনেক বেশি। যদিও ওই চুক্তি থেকে পরে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ায়। 

তবে ২০২৫ সালের জুনের পর থেকে এই ইউরেনিয়ামের মজুতের পরিণতি এখন অনিশ্চিত। কারণ মার্কিন ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।