বাসস
  ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৮

পারমাণবিক জ্বালানিতে স্বনির্ভরতার পথে ভারত

ঢাকা, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির নকশায় তৈরি একটি রিয়্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

জ্বালানি-চাহিদা বেড়ে চলা ভারত পারমাণবিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত তৃতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী। 

দেশটি বর্তমানে আট গিগাওয়াট ক্ষমতা থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, কালপাক্কামের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর (পিএফবিআর) ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এই পর্যায়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ ভারত তার বেসামরিক পারমাণবিক অভিযাত্রায় একটি নির্ধারক পদক্ষেপ নিল। এতে আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ এগিয়ে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উন্নত রিয়্যাক্টরটি যত জ্বালানি ব্যবহার করে, তার চেয়েও বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি আমাদের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার গভীরতা ও প্রকৌশল দক্ষতার শক্তির প্রতিফলন।’

মোদি একে ‘আমাদের বিশাল থোরিয়াম মজুত ব্যবহারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। 

থোরিয়াম হচ্ছে পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের সম্ভাব্য জ্বালানি।

তবে রিয়্যাক্টরটি এখনো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেনি। পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

এ উন্নয়ন এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তা জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ভারত এখনও ব্যাপকভাবে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশটি ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।