বাসস
  ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭

ইসরাইলি হামলায় সিরিয়ায় নিহত ১

ঢাকা, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল-অধিকৃত গোলান মালভূমির কাছে কুনিত্রা প্রদেশে ইসরাইলি গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বেসামরিক নাগরিকের এই মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ‘একটি ইসরাইলি ট্যাংকের’ হামলায় ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি বাহন বা গাড়ি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর একটি বেসামরিক গাড়িকে ট্যাঙ্কের গোলা দিয়ে সংঘটিত অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।’

মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, এই হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার এই ধরনের লঙ্ঘন বন্ধ করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর, ইসরাইল গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি ও সিরীয় বাহিনীকে পৃথককারী একটি জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে সৈন্য পাঠায়।

এরপর থেকে ইসরাইল সিরিয়ার ভূখণ্ডে বারবার অনুপ্রবেশ ও বোমা হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির দক্ষিণে একটি নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে।

সরকারি সংবাদমাধ্যম নিয়মিতভাবে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের অনুপ্রবেশ এবং কখনও কখনও ব্যক্তিদের আটকসংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে আসছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সানা জানায়, কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরাইলি বাহিনী ‘এলাকায় তাদের স্থাপিত নতুন সামরিক অবস্থানের দিকে যাওয়ার বেশ কয়েকটি রাস্তা’ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী একটি গ্রামে সাময়িক চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে এবং সেখানে পথচারীদের তল্লাশি চালানো হয়েছে।

গত মাসে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর কথিত হামলার জবাবে তারা সিরীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘একটি জঘন্য হামলা’বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধ চলছে, ঠিক তখনই ইসরাইলি  বাহিনী হামলাগুলো চালিয়েছে।

গত ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয় এবং পরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করে। যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই স্বীকৃতি দেয়নি।

উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনার পরও, ইসরাইল ও সিরিয়ার নতুন সরকার কয়েক দফা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করেছে এবং নিরাপত্তা চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনে সম্মত হয়েছে।