শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, ওয়াশিংটনের কার্যত জ্বালানি অবরোধ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া কিউবায় তেল পাঠাতে পারবে, এতে আমার আপত্তি নেই।
সংকটাপন্ন দ্বীপটিতে একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ জরুরি প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেওয়ার পথে রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যদিও এই চালানটি কিউবাকে কিছুটা স্বস্তি দেবে, তবুও ট্রাম্প দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই’ এই সরকার ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
শিপিং ট্র্যাকার মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, ‘আনাতোলি কলোদকিন’ নামের জাহাজটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে। জাহাজটি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কিউবার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল এবং মঙ্গলবারের মধ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মাতানজাস বন্দরে নোঙর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত জানুয়ারি মাসের পর এটিই হবে দ্বীপটিতে আসা প্রথম তেলের চালান। যা ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ৯৬ লাখ মানুষের এই দেশটিকে কিছুটা সাময়িক স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো এস্টেট থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল পাঠাতে চায়—তা রাশিয়া হোক বা অন্য কেউ—আমার এতে কোনো সমস্যা নেই।’
তবে তিনি আরও বলেন, ‘কিউবা শেষ হয়ে গেছে। তাদের শাসনব্যবস্থা খারাপ, নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত। একটি তেলের জাহাজ পেলেও তাতে কোনো পরিবর্তন হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বরং তেল ঢুকতে দিতে চাই। রাশিয়া হোক বা অন্য কেউ। কারণ, সাধারণ মানুষের গরম, ঠান্ডা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধার জন্য জ্বালানি দরকার।’
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর কিউবা তাদের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র এবং তেল সরবরাহকারীকে হারিয়েছে।
এরপর ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং দ্বীপটি ‘দখল’ করার কথাও ইঙ্গিত দেন।
গতকাল রোববার তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই এটি (কিউবা) ভেঙে পড়বে এবং আমরা তখন সাহায্য করতে সেখানে থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের কিউবান-আমেরিকানদের সাহায্য করব, যাদের কিউবা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের (ফিদেল) কাস্ত্রোর শাসনে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। কিউবাই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।