শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিকে তলব করার ঘোষণা দিয়েছে ইরাক। মঙ্গলবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু হওয়া সাবেক আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোকে ‘প্রত্যুত্তর দেওয়ার অধিকার’ দিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরাকও জড়িয়ে পড়েছে।
ভয়াবহ এই সংঘাত এখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাবেক আধাসামরিক জোট হাশেদ আল-শাবি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর অংশ। তবে এতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ব্রিগেডও রয়েছে।
গোষ্ঠিটি দেশটির মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
ওই হামলায় একজন কমান্ডার ও ১৪ যোদ্ধা নিহত হন।
স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমার্গা বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন।
অঞ্চলটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটিই ইরানের প্রথম প্রাণঘাতী হামলা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই মন্তব্য করেনি।
তবে মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরাক জানায়, তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় দেশের প্রতিনিধিকে তলব করবে ও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, যাতে ইরাককে ‘সংঘাতের ক্ষেত্রের মধ্যে টেনে নেওয়া’ না হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক প্রক্সি সংঘর্ষের ময়দান। দুই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে দেশটি চাপে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার দায় স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এ সব গোষ্ঠী ও রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাও চালানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হলে, সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সাবেক আধাসামরিক সদস্যদের ড্রোন ও বিমান হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
-‘যুদ্ধের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের হাতে’-
মঙ্গলবার রাতে শিয়া দলগুলোর জোট ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। তবে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক মিশনে হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের শাস্তির দাবি করে।
জোটটি বলেছে, যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার রাষ্ট্রেরই।
পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামেও পরিচিত হাশেদ আল-শাবি জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধাদের ওপর হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষ প্রাদেশিক কমান্ডার রয়েছেন।
তারা এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক মার্কিন হামলা’ বলে অভিহিত করে।
গত রাতের হামলায় সিরিয়া সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের কেন্দ্র।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, বাগদাদ বারবার হাশেদ আল-শাবির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এই জোট গঠিত হয়।