শিরোনাম

ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরো বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার নিখোঁজদের খোঁজে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা।
কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
ধসের ঝুঁকির কারণে শুরুতে দমকল কর্মীরা মধ্যাঞ্চলীয় শহর ডেজনে অবস্থিত এই কারখানা ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, ঘটনাস্থলে মজুত থাকা সোডিয়ামের কারণেও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে আগুন লাগার সময় কারখানায় প্রায় ১৭০ জন কর্মী ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় ১১ জন মারা গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডে ৩৪ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। এই দুর্ঘটনায়
এখনও তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন।’
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। এক প্রত্যক্ষদর্শী ইয়োনহাপকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
ইয়োনহাপের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দমকল কর্মীরা ক্রেন থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।
শনিবার বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উদ্ধার অভিযানে সব ধরণের জনবল ও সরঞ্জাম কাজে লাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।
তিনি দেশের শ্রমিকদের জন্য উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কর্মস্থলে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর দেশে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারিসেলের প্রধান নির্বাহীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় দক্ষিণ কোরিয়া।
২০২৪ সালে রাজধানী সিউলের দক্ষিণে হোয়াসংয়ের একটি লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা যান। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন চীনা নাগরিক।