বাসস
  ২১ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৬

সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানালো আরব দেশগুলো

ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  আজ শনিবার সিরিয়ার সেনা ঘাঁটিতে ইসরাইলের হামলাকে ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যান্য আরব দেশ ও তুরস্কের সঙ্গে একযোগে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে, যা তাদের ভাষ্যমতে সুইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা হয়েছে।

ইসরাইল গত বছর একটি প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় সিরিয়ায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, তখন তারা বলেছিল যে, তারা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটিকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘প্রকাশ্য ইসরাইলি আগ্রাসন’ এর নিন্দা জানায়। এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সৌদির এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘ইসরাইলের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে’ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলের হামলাকে  ‘একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত  করে, তা বন্ধ করার আহ্বান জানায়।

মিশর, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতও ইসরাইলি হামলার নিন্দায় যোগ দেয় এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও এমন হামলা প্রতিরোধে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপর জোর দেয়।

কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ‘নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ইসরাইলের এ সব চলমান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও হামলা বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধ উত্তাল হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ইসরাইলি এই হামলাগুলো চালানো হয়। 

এই আক্রমণের ফলে সৃষ্ট সংঘাত অঞ্চলটির বেশিরভাগ অংশকে গ্রাস করেছে। তবে সিরিয়া এখনও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েনি। 

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সুইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চার জন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

এরপর ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সুইদা শহরের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে বলে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি জানায়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর, ইসরাইল গোলান মালভূমিতে ইসরাইল কর্তৃক সংযুক্ত জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত অসামরিকীকৃত অঞ্চলে তাদের বাহিনী মোতায়েন করে এবং সিরিয়ায় শত শত হামলা চালানোর পাশাপাশি নিয়মিত অনুপ্রবেশও চালিয়ে আসছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গতকাল শুক্রবার বলেছে, তারা ‘সিরিয়ায় দ্রুজদের ক্ষতি হতে দেবে না এবং তাদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।’

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলের পদক্ষেপকে ‘সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরুদ্ধে জঘন্য আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানায় এবং ইসরাইলের যুক্তিকে ‘দুর্বল অজুহাত ও মনগড়া কারণ’ বলে অভিহিত করে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গতকাল শুক্রবার জানান, তিনি ‘সিরিয়াকে যে কোনো ধরনের সংঘাত থেকে দূরে রাখার’ চেষ্টা করছেন এবং তার সরকার ‘সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে।’