বাসস
  ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৭

ইরাক-সিরিয়া সীমান্ত ও বাগদাদে বিমান হামলা, ইরান-সমর্থিত ১১ যোদ্ধা নিহত

ঢাকা, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরাক-সিরিয়া সীমান্তের কাছে ও রাজধানী বাগদাদে বৃহস্পতিবার চালানো বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত অন্তত ১১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

হাশেদ আল-শাবি’র ঘাঁটিতে চালানো এসব হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। সাবেক এই আধাসামরিক বাহিনী এখন ইরাকের নিয়মিত নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। এতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্রিগেডও রয়েছে। বাগদাদ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত গোষ্ঠী হারাকাত আনসারুল্লাহ আল-আওফিয়ার একটি ঘাঁটিতে হামলায় নয় যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ১০ জন ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, হামলায় ঘাঁটিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো উদ্ধারকারী দলকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

ঘাঁটিটি পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করা একাধিক হামলায় এই বাহিনীর অবস্থান বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

পিএমএফ বৃহস্পতিবারের হামলায় তাদের নয় সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, এসব ঘাঁটির সঙ্গে ইরাকে বা অন্য কোথাও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কোনো সম্পর্ক ছিল না।

পিএমএফ জানায়, নিহত যোদ্ধারা সবাই সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। 

বাহিনীটি আরও জানায়, পিএমএফ ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ।

তেহরানের মিত্র শক্তিশালী হিজবুল্লাহ ব্রিগেডস-এর কর্মকর্তারা এএফপি’কে জানান, পৃথক আরেক হামলায় বাগদাদের উপকণ্ঠে একটি ঘাঁটিতে বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত অন্য একটি গোষ্ঠীর অন্তত দুই যোদ্ধা নিহত হন।

সরকারি এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থাপনা যেখানে পুলিশ ও পিএমএফ সদস্যরা একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ইরাকের রাজধানীর এত কাছে এ ধরনের হামলা এই প্রথম।

ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধের একটি ময়দান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশটির সরকার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরাকও দ্রুত জড়িয়ে পড়ে।

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্টেন্স ইন ইরাক’ প্রায় প্রতিদিনই ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার দাবি করে আসছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি পিএমএফ ঘাঁটিতে হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ হিসেবে ‘পবিত্র দায়িত্ব’ পালন করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত আগ্রাসন বিভিন্ন স্থাপনা ও সদর দফতরে হামলার মাধ্যমে শুধু সামরিক লঙ্ঘনই নয়, বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও ইরাকের নিরাপত্তা দুর্বল করার মরিয়া চেষ্টা।’