শিরোনাম

ঢাকা, ৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী বৈধ বলে দাবী করেছে ইসরাইল।
একই সঙ্গে খামেনিকে ইরানি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বর্ণনা করেছে তেলআবিব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত হামলার মাধ্যমে গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই একটি অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন।
জেরুজালেম থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ইসরাইলের দাবী, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই হামলা জরুরি ছিল। কারণ ইরান নতুন একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বৃহস্পতিবার বলেন, খামেনিকে হত্যার জন্য পরিচালিত হামলাটি ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন মেনে’ করা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ চলাকালে সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনাকারী সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।’
শোশানি বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলী খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।’
তাকে ইরানের সামরিক অভিযানের ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরাইলি এই মুখপাত্র আরও বলেন, চলমান যুদ্ধে খামেনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন। তিনি সরকারের মিত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও সমন্বয় তদারকি করতেন।
তার ভাষ্যমতে, সর্বাধিনায়ককে নিস্ক্রিয় করার ফলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। এতে তাদের স্পষ্ট সামরিক সুবিধা মিলেছে।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, জামাতা ও দুই নাবালক নাতি-নাতনিও প্রাণ হারান।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।