বাসস
  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪০

ভেনেজুয়েলা পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে সাধারণ ক্ষমা আইন পাস

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি ‘ক্ষমা আইন’ অনুমোদন করেছে। এর ফলে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাবন্দি শত শত রাজনৈতিক নেতার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কারাকাস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

তবে যারা দেশের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় উসকানি দেওয়া বা অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত, তারা এই ক্ষমার আওতায় পড়বেন না। ফলে এর মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর মতো বিরোধী নেতাদের নামও থাকতে পারে। ক্ষমতাসীন দল তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বানের অভিযোগ এনেছে।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ডেলসি রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটনের চাপে এবং তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাস হওয়া এই বিলে তিনি সই করেছেন। রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিলটিতে সই করার পর রদ্রিগেজ বলেন, ‘মানুষকে যেমন ক্ষমা চাইতে জানতে হয়, তেমনি ক্ষমা গ্রহণ করতেও জানতে হয়।’

এই আইনের সুবিধা ১৯৯৯ সাল থেকে হওয়া আগের সব ঘটনার ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে। এর আওতায় সাবেক নেতা হুগো চাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টা, ২০০২ সালের তেল ধর্মঘট এবং ২০২৪ সালে মাদুরোর বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর ঘটা দাঙ্গার ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কারাবন্দিদের পরিবারগুলোর মনে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার নতুন আশা জেগেছে।

তবে জনমনে শঙ্কা রয়েছে যে, সরকার এই আইন ব্যবহার করে নিজেদের লোকদের ক্ষমা করে দিতে পারে এবং প্রকৃত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে। 

বিলের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যারা বিদেশি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত ছিল, তারা কোনোভাবেই ক্ষমা পাবে না।

এদিকে জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই আইনের পরিধি কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তাদের এই আইনের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত কয়েক বছরে শত শত ভেনেজুয়েলান নাগরিককে কারাবন্দি করা হয়েছে। অনেক বন্দির পরিবার কারাগারে নির্যাতন ও বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে থাকা স্বজনদের দুরবস্থার কথা জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর মতে, মাদুরোর পতনের পর থেকে প্রায় ৪৫০ জন বন্দি মুক্তি পেলেও এখনও ৬০০-র বেশি মানুষ কারাগারে রয়েছেন।

স্বজনদের মুক্তির দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কারাগারের বাইরে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে পরিবারগুলো। 

ফোরো পেনালের পরিচালক গনজালো হিমিয়ব বলেন, ‘জাতীয় সমঝোতার জন্য সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছা আছে কি না, তা প্রমাণের সুযোগ এখন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির হাতে।’

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে মাদক চোরাচালান বিরোধী অভিযানের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রধান বুধবার কারাকাসে ডেলসি রদ্রিগেজ এবং শীর্ষ দুই মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো (প্রতিরক্ষা) ও দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই তিন মন্ত্রীই এক সময় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং কট্টর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদে প্রবেশের সুযোগ পাবে।