বাসস
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬

ইরানে মার্কিন পদক্ষেপের আহ্বান রেজা পাহলভির

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :  ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি ইরানে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে মার্কিন পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে জানান, তিনি তার দেশকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের’ দিকে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। 

এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’ হবে সর্বোত্তম বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ওয়াশিংটন তেহরানের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পর, সুইজারল্যান্ড গতকাল শনিবার নিশ্চিত করেছে, মধ্যস্থতাকারী ওমান আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা বৈঠকের আয়োজন করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের পাশে প্রায় ২ লাখ সমর্থকদের সমাবেশে ইরানে একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক’ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেন। 

তিনি  ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে আর ইরানে ফিরে যাননি।

রেজা পাহলভি বলেন, ‘আমি এখানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের উত্তরণের নিশ্চয়তা দিতে এসেছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিবর্তনের নেতা হওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আর এর মাধ্যমে আমরা একদিন গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটের মাধ্যমে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চূড়ান্ত সুযোগ পেতে পারি।’

সমাবেশে উপস্থিত জনতা ‘জাভিদ শাহ’ (শাহ দীর্ঘজীবী হোক), এই স্লোগান দিচ্ছিল এবং তারা সবুজ, সাদা ও লাল পতাকা উড়াচ্ছিল, যার মধ্যে একটি সিংহ ও সূর্য ছিল— যা উচ্ছেদকৃত রাজতন্ত্রের প্রতীক।

৬২ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সাইদ এএফপিকে বলেন, ‘ইরানের শাসন ব্যবস্থা একটি মৃত শাসন ব্যবস্থা।’ 

তিনি ইরানের বাসিন্দা। 

পাহলভি দেশে ও বিদেশে ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

জার্মানি ও অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শনিবার ও রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় তাদের বাড়ি ও ছাদ থেকে স্লোগান দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত বিভিন্ন বিক্ষোভে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শনিবার ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

‘ট্রাম্প, এখনই পদক্ষেপ নিন!’— এমন স্লোগান দিয়ে টরন্টো শহরে বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিবাদ জানায়। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন দেশটির জন্য ‘সবচেয়ে ভালো বিষয়’, আর এটি ঘটতে পারে। 

তিনি তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিলেন।