শিরোনাম

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভারী তুষারপাতের মধ্যে রোববার জাপানে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা করছেন, ক্ষমতায় আসার পরের অনুকূল সময়কে কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যালটের মাধ্যমে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করবেন, যা চীনকে ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
টোকিও থেকে এএফপি জানায়, জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), যা কয়েক দশক ধরে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশ শাসন করে আসছে, ৪৬৫ সদস্যের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় ২৩৩টির বেশি আসনে সহজেই জয় পেতে পারে।
ভোটের দিন দেশটির বহু অঞ্চলে ভারী তুষারপাত হয়েছে, যার মধ্যে টোকিও এবং এমন অনেক এলাকাও রয়েছে যেখানে সাধারণত শীতকালে তুষারপাত কম হয়।
টোকিওর একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে কেবল ‘কোন্দো’ পদবি প্রকাশ করা ৫০ বছর বয়সী এক নারী এএফপিকে বলেন, ‘আমার মনে হয় আসা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আমরা রাজনীতিতে যথাযথভাবে অংশ নিতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘এখনকার চেয়ে বেশি তুষারপাত হলেও আমি ভোট দিতে আসার পরিকল্পনা করেছি।’
উত্তর জাপানের আওমোরিতে সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথ খুঁজে পেতে আমাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে, চারপাশে তুষার জমছিল এবং খারাপ সড়ক পরিস্থিতির কারণে এখানে পৌঁছানোও কঠিন ছিল।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটি তুষারহীন মৌসুমে হলে ভালো হতো।’ কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ফেব্রুয়ারির তুষারময় সময়ে জাপানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জরিপকারীরা সতর্কতার সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন—অনির্ধারিত ভোটার ও খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব সত্ত্বেও—এলডিপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৩১০টি আসনও পেতে পারে।
এটি হলে ২০১৭ সালের পর এলডিপির জন্য এটিই হবে সেরা ফলাফল, যখন তাকাইচির পরামর্শদাতা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে একই ধরনের সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
যৌবনে তাকাইচি হেভি মেটাল ব্যান্ডে ড্রাম বাজাতেন এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত ছিলেন। অক্টোবরে তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণের আগে এলডিপির অতিরক্ষণশীল অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নিরাশাবাদীদের ভুল প্রমাণ করে তিনি বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার হ্যান্ডব্যাগ থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কে-পপ গানে অংশ নেওয়ার ভিডিও—সবকিছুই সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
তবে সব ক্ষেত্রে তিনি সমানভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় নেই, বিশেষ করে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে।
মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর তিনি নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর স্থগিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা ভোটারদের অসন্তোষের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশের মোট অর্থনীতির আকারের দ্বিগুণেরও বেশি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ইয়েনের দর ওঠানামা করেছে।
টোকিওর একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ৫০ বছর বয়সী চিক্যা সাকামোতো এএফপিকে বলেন, ‘তিনি সব সময় সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতির মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু এতে আমরা সত্যিই ভালো পথে এগোব কি না, তা আমি জানি না।’
তিনি বলেন, ‘তবু তারা যদি আক্রমণাত্মক ব্যয়নীতি অনুসরণ করে তাহলে কী হয় তা দেখতে চেয়েছি,’ কারণ এতে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবারগুলোর ওপর কমতে পারে বলে তিনি আশা করেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে আগে থেকেই চীনবিরোধী কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত তাকাইচি ইঙ্গিত দেন, বেইজিং যদি বলপ্রয়োগে স্বশাসিত তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
চীন গণতান্ত্রিক দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ড বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জাঁকজমকভাবে স্বাগত জানানোর পর তাকাইচির এ ধরনের মন্তব্যে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা টোকিওর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে, নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিমান মহড়া চালায়। গত মাসে জাপানের শেষ দুটি পান্ডাও চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে এ বিরোধ নিয়ে মন্তব্য না করলেও গত সপ্তাহে তাকাইচিকে ‘শক্তিশালী, প্রভাবশালী ও প্রজ্ঞাবান নেতা, যিনি সত্যিই নিজের দেশকে ভালোবাসেন’ বলে প্রশংসা করেন।
সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মার্গারিটা এস্টেভেজ-আবে বলেন, চীন ইস্যুটি তাকাইচির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখন ২০২৮ সালে পরবর্তী উচ্চকক্ষের নির্বাচন পর্যন্ত তাকে আর কোনো নির্বাচন নিয়ে ভাবতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাপানের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হবে, তাকাইচি কিছুটা সময় নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগ দেন।’
ভোটকেন্দ্রগুলো স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা) বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে এবং আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের পূর্বাভাস শিগগিরই প্রকাশিত হতে পারে।