বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২০

‘গণহত্যায় জড়িত থাকার' অভিযোগে দুই ফরাসি-ইসরাইলি’র বিরুদ্ধে তদন্ত ফ্রান্সের

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ফরাসি কর্তৃপক্ষ দু’জন ফরাসি-ইসরাইলি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় জড়িত থাকার’ অভিযোগে পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা সংঘাতপূর্ণ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গতকাল সোমবার একটি আইনি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বছর মামলা দায়ের করা এনজিওগুলোর একজন আইনজীবীর বলেন, এটিই প্রথমবারের মতো যে কোনও দেশ মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘গণহত্যায় সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

তদন্তের সাথে ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং ফরাসি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপিকে জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই মাসে ‘ইসরাইল ইজ ফরেভার’ গ্রুপের নিলি কুপফার-নাউরি এবং টিএসএভি ৯ গ্রুপের র‌্যাচেল তৌইতু বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এই দুজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জানুয়ারী থেকে নভেম্বর এবং গত বছরের মে মাসে নিতজানা এবং কেরেম শালোম সীমান্ত চৌকিতে গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণ বহনকারী  ট্রাকগুলোকে আটকানোর চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।

পরোয়ানায় দুজনকে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে তাদের আটকের জন্য নয়।’ 
কুপফার-নাউরির আইনজীবী অলিভিয়ার পার্দো বলেন, ‘শান্তিপ্রিয়’ পদক্ষেপগুলো হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো কর্তৃক মানবিক সাহায্যের ‘ছিনতাই’ বা ‘হাইজ্যাক’-এর নিন্দা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে যারা ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল।

৩৪ বছর বয়সী তৌইতু তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘যদি কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের মানবিক সাহায্য কেড়ে নেওয়া, তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং গাজার বাসিন্দাদের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করা অপরাধ হয় - তাহলে মোল্লাদের অবজ্ঞা করার কোনও কারণ নেই, ফ্রান্স হলো ইরান!’

‘নিউজ’ ওয়েবসাইটের সাথে এক সাক্ষাৎকারে, ৫০ বছর বয়সী কুপফার-নাউরি ফরাসি তদন্তকে ‘ইহুদি-বিরোধী উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

পার্দো বলেছেন, কুপফার-নাউরি ইসরাইলে আছেন। সেখানে ফরাসি তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি প্রস্তুত।

একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজায় সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘গণহত্যার জন্য জনসাধারণের উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে এই দুই কর্মীকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তের সাথে ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে যে, আরও প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হতে পারে।

গত বছর ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী আল-হক এবং আল-মেজান এই অভিযোগগুলো দায়ের করেছে। দলগুলোর আইনজীবী ক্লেমেন্স বেকটার্ট বলেছেন যে, গণহত্যা আইনে এটিই প্রথম তদন্ত।

ইসরাইলি বোমা হামলায় গাজায় ফ্রাঙ্কো-ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা এবং এই অঞ্চলে অভিযানে অংশ নেওয়া দুই ফ্রাঙ্কো-ইসরাইলি সৈন্যের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ জন্য ফ্রান্সে অন্যান্য অভিযোগও করা হয়েছে।