বাসস
  ১০ জানুয়ারি ২০২২, ২০:১৭

বাসস দেশ-৪৭ : কোস্ট গার্ডের জন্য নির্মিত ১টি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও ৬টি হাই-স্পিড বোট হস্তান্তর 

বাসস দেশ-৪৭
কোস্ট গার্ড - হস্তান্তর 
কোস্ট গার্ডের জন্য নির্মিত ১টি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও ৬টি হাই-স্পিড বোট হস্তান্তর 
ঢাকা, ১০ জানুয়ারি, ২০২২ (বাসস) : বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য নির্মিত ১টি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) ও ৬টি ওয়াটার জেট প্রযুক্তির হাই স্পিড বোট আজ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডইডব্লিউ) কনস্ট্রাকসন সাইটে সোমবার এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আইপিভি ও স্পিড বোটগুলো হস্তান্তর করা হয়। 
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি ছিলেন। ডিইডব্লি¬উ লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী আইপিভি এবং বোটসমূহের হস্তান্তর কার্য সুসম্পন্ন করেন। আজ সোমবার আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রায় ৫৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে ২৩ নট গতি সম্পন্ন আইপিভি এবং ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে ২৭ নট গতিসম্পন্ন আধুনিক ওয়াটার জেট প্রযুক্তির হাই স্পিড বোটগুলি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বহরে যুক্ত হয়ে উপকূলীয় এলাকায় টহল ও পুলিশিং ডিউটি, বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষা, জলদস্যুতা-বিরোধী কার্যক্রম,মাদক-পাচার বিরোধী অভিযানে নিয়োজিত থাকবে।
নির্মিত আইপিভি এবং হাই স্পিড বোটগুলি জাহাজ নির্মাণের আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি’র (আইএসিএস) অন্যতম সদস্য চায়না ক্লাসিফিকেশন সোসইটি (সিসিএস) এবং ব্যূরো ভেরিটাস (বিভি) Bureau Veritas কর্তৃক অনুমোদিত। তাছাড়া বোটগুলি যে কোন দুর্যোগময় মুহুর্তে অতি অল্প সময়ে ত্রাণসহ নানা সহায়তা প্রদানে সক্ষম।  বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার কর্তৃক জারিকৃত কঠোর লকডাউনের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। 
উল্লেখ্য, ইয়ার্ডটি ঐতিহ্যবাহী নগরী নারায়ণগঞ্জের কোল ঘেঁষে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট ২২ একর এলাকা সমৃদ্ধ এই ইয়ার্ড দেশের সবচাইতে ঐতিহ্যবাহী ও পুরাতন ডকইয়ার্ড, যার জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে রয়েছে প্রায় শত বর্ষের প্রত্যক্ষ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এটি বিআইডিসি এবং পরে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। 
স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই ইয়ার্ডে নির্মাণ করা হয় দেশের প্রথম সামরিক জাহাজ বিএনএস পাবনা। তারপর একে একে বাংলাদেশ নেবৈাহিনীর জন্য আরো চারটি জাহাজ নির্মিত হয় যেগুলো পাবনা ক্লাস নামে পরিচিত। এই ডকইয়ার্ড প্যাট্রোল ক্রাফট/যুদ্ধজাহাজ তৈরীতে যে পারদর্শীতা অর্জন করেছে তা জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশকে এই ধরনের আরও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া শিপবিল্ডিং ও জাহাজ মেরামত কাজের পাশাপাশি সকল প্রকার স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজসহ বিভিন্ন জাহাজের ইঞ্জিন ওভারহলিং থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরণের ভারী মেকানিক্যাল কাজ এই ডকইয়ার্ডের সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। নির্ভরযোগ্য ও যুগোপযোগী অবকাঠামো, গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল সুযোগ সুবিধা, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশ বান্ধব উৎপাদনমুখী কর্মপরিবেশ অত্র ইয়ার্ডের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের চালিকাশক্তি।
বাসস/আইএসপিআর/জেডআরএম/২০১৭/এবিএইচ