
মাউন্ট মঙ্গানুই, ৩ জানুয়ারি, ২০২২ (বাসস) : মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে নেমে ৭৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়। দ্বিতীয় দিন শেষে ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন জয়। তৃতীয় দিন ৮ রান যোগ করে ফিরেন তিনি। তবে তার ৭৮ রানের ইনিংসটি প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে টিম সাউদি-ট্রেন্ট বোল্ট-নিল ওয়াগনার ও কাইল জেমিসনের সামনে নিজের জাত চেনান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা জয়। ২৯২ মিনিট ক্রিজে থেকে শান্ত মেজাজে ২২৮ বল খেলেছেন তিনি। ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারি মারেন জয়।
উইকেটে টিকে থাকাই মূল লক্ষ্য ছিলো জয়ের। আজ তৃতীয় দিন শেষে ভিডিও বার্তায় নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে জয় বলেন, ‘পরিকল্পনা তেমন কিছু ছিল না। মূল ম্যাচের আগে যে প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলেছি, সেটা অনেক কাজে দিয়েছে। সেখানে আমি খেলার সুযোগ পাই এবং মোটামুটি ভালোই করি। সেখান থেকেই আমি আত্মবিশ্বাস পাই, যেটা মূল ম্যাচে পারফর্ম করতে সাহায্য করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল রানের দিকে না গিয়ে বেশি বেশি বল খেলা। আমি বেশি বল খেলতে পারলে রান এমনিতেই আসবে। আমার সঙ্গী যারা ছিলেন- সাদমান ভাই, শান্ত ভাই- মোমিনুল ভাই সবাই একই কথা বলেছেন। এটাই ছিল উইকেটে শান্ত থাকার কারণ।’
ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে কি পরিকল্পনা ছিলো সেটিও জানিয়েছেন জয়। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের শুরুর দিকে আমার আর সাদমান ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল, নতুন বল কিভাবে পুরানো করা যায় এবং বল বাই, বল খেলবো। আমরা যদি বেশি দূরের চিন্তা করি তাহলে হয়তো বা সফল নাও হতে পারি। কিন্তু বল বাই বল খেললে সফল হবার সম্ভাবনাটাই বেশি থাকে। আমাদের জুটিটা ভালোই হয়।’
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ১০৪ রানের জুটি গড়েন জয়। জুটি নিয়ে তিনি, ‘যখন শান্ত ভাই আসেন, তার সাথেও আমার জুটিটা অনেক ভালোই হয়েছিল। কিছু-কিছু সময় আমি শট খেলার জন্য বেশি আক্রমণাত্মক হই, তখন শান্ত ভাই আমাকে নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য বলেন। তারপর মোমিনুল ভাইয়ের সাথেও আমার জুটি হয়, তিনিও আমাকে একই কথাটা বলেছেন। যখন বেশি ডট বল হয় তখন বলেন, ডট বলে হলে সমস্যা নেই, চালিয়ে যেতে থাকো।’
বিশ^সেরা নিউজিল্যান্ডের পেস অ্যাটাকের বিপক্ষে বলের গুনাগুন দেখে খেলেছেন জয়, ‘নিউজিল্যান্ড দলের পেস বোলিং আক্রমণ বিশ্বসেরা। ওরা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দল। আমি এক্ষেত্রে আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেছি। তাদের বোলারদের নাম না দেখে, বল দেখে খেলার চেষ্টা করেছি।’
জাতীয় দলেলর হয়ে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে খেলতে নামেন জয়। এই পরিস্থিতিতে দল ও টিম ম্যানেজমেন্ট অনেক সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি, ‘দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কাছ থেকে দারুণ সমর্থন পেয়েছি। আমি যে নতুন দলে এসেছি, সেই চাপটা আমি অনুভব করিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই আমাকে সাহায্য করেছে।’
জয়ের সাথে অধিনায়ক মোমিনুল হকের ৮৮ ও লিটন দাসের ৮৬ রানের সুবাদে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪০১ রান করেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেট নিয়ে ৭৩ রানে এগিয়ে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান করে নিউজিল্যান্ড।