বাসস
  ২৪ মে ২০২৬, ১৬:৪১

রামিসার হত্যা ঘিরে এডিটেড ছবি ছড়িয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপতৎপরতা

\ দিদারুল আলম \

ঢাকা, ২৪ মে, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হকের একটি নির্বাচনী পোস্টার এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট ও ফ্যাক্টওয়াচ।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্বাচনী ফেস্টুন দাবি করে একটি ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। মূলত ভিন্ন একটি ছবি এডিট করে এটি তৈরি করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হকের ছবিসহ একটি পোস্টারে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলের ছবি এডিট করে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

অন্যদিকে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানও বলছে, ভাইরাল ব্যানারটি এডিট করে বানানো হয়েছে। দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। 

প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।

প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্যাক্টচেক করে চিহ্নিত করেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন ও মিডিয়া ট্রায়ালের মুখোমুখি লক্ষ্যে এই ছবি এডিট করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত সুনির্দিষ্ট ফেসবুক আইডি ও পেইজসহ বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্টে বিভিন্ন আইডি থেকে এডিটেড ছবিটি ছড়ানো চিহ্নিত মহলের পরিকল্পিত তৎপরতা বলেও শনাক্ত করা হয়েছে।

তারা জানায়, সাংগঠনিক শৃংখলার দায়ে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন ইসহাক সরকার। 

গতকাল (শনিবার) এনসিপির সমাবেশ থেকে এডিটেড ছবির ওপর ভিত্তি করে শিশু রামিসার ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তি বিএনপির কর্মী উল্লেখ করে বক্তব্য দেন তিনি।

ইসহাক সরকারের বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক ও বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িত সোহেলকে দ্রুতসময়ে গ্রেফতার করে সফলভাবে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। 

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আজ (রোববার) চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। এ মামলার ডিএনএ পরীক্ষার কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ।

এরই মধ্যে রামিসার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঘটনায় দ্রতসময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারে নিশ্চিত করা হবে বলে শিশুটির পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। শিশুটির পরিবারও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ তৎপর  রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও আগামী এক মাসের মধ্যে শিশু রামিসার হত্যাকারীর ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

একটি মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে অভিযোগ করে জনগণকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তারেক রহমান বলেন, সবচেয়ে যে বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা ও দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে। 

তিনি আরও বলেন, 'আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে। সেই শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড; যেন ভবিষ্যতে কোনো মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতনের সাহস না পায়।'

ন্যায়বিচারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এমন কটোর অবস্থান সত্ত্বেও চিহ্নিত একটি মহল বর্তমান সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্টে অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

তারা বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। 

পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে ফ্যাক্টচেক টিম ও প্রতিষ্ঠানগুলো।