শিরোনাম

-জাহিদুল খান সৌরভ-
শেরপুর, ২৪ মে ২০২৬ (বাসস): ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার খামারিরা। এবছর জেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু। অতিরিক্ত গরমে এসব পশু যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে তার জন্য সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। ছোট বড় সব ধরনের খামারিদের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম বসানো হয়েছে।
বিক্রেতাদের পাশাপাশি ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শেরপুর জেলায় ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য ছোট বড় ১৩ হাজার ৫৯০ টি খামারে প্রায় ৯২ হাজার পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এসব খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে সবুজ ঘাস, লতা পাতা, খৈল, ভুসি, কুড়া ও দেশীয় স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের মাধ্যমে পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। বাজার মূল্য ঠিক থাকলে এবারও লাভের আশা করছেন তারা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আরো জানায়, খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পশুর খাদ্য হিসেবে রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড়। খামারে পশুর জন্য নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এবছর খামারগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, ব্রাহামা প্রজাতির গরুকে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে।
খামারে গরুকে যেন ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মোটাতাজা না করা হয়, সে বিষয়ে মাঠে রয়েছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক টিম।
চলতি বছর শেরপুরের ৫ উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার ৭৪০ টি। এদিকে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ২৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এসব পশু জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলায় ২০ টি কোরবানি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত পশু নির্ণয়ে কাজ করবে ১৮ টি ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম।
শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের জিহান ডেইরি ফার্মের কর্মকর্তা মুকুল আহম্মেদ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। তাই গরু মোটাতাজাকরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে ন্যায্য মূল্যে গরু বিক্রি করতে পারলে লোকসান কাটিয়ে লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করেন তারা। এছাড়া ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়বে। যা তাদের জন্য লাভজনক হবে।
সদরের কামারের চরের খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলার বিভিন্ন খামারে গিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপারী ও কোরবানিদাতারা গরু ও ছাগল দেখে দরদাম শুরু করেছেন। হাটের ভোগান্তি কমাতে অনেকেই তাদের পছন্দমত খামার থেকেই পশু ক্রয় করছেন।
শেরপুর পৌরসভাধীন ইলিয়াস ক্যাটল ফার্মে কর্মরত শ্রমিক জাফর আলী জানান, সন্তানের মতো করে গরুগুলোকে বড় করেছি। কোনো ওষুধ ছাড়াই শুধু ঘাস, ভুট্টা, খৈল আর কুঁড়া খাইয়েছি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পশুর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং জাল টাকার প্রভাব যেন না থাকে সেই অনুযায়ী প্রত্যেক হাটে জেলা পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি রাখবে । অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে যেন কোরবানির পশু জেলায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, খামারিদের নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি কোরবানির হাটে সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এছাড়া খামারের পশুকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করতেও সচেতন করা হচ্ছে।