BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:৪১
আপডেট  : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪০

কোপ২৬ বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী : ফ্লাহার্টি

॥ তানজিম আনোয়ার ॥
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২১ (বাসস) : জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কোপ২৬ এর আঞ্চলিক দূত কেন ও’ফ্লাহার্টি বলেছেন, ব্রিটেনের গ্লাসগোতে আগামী মাসের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু সহনশীলতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান বিশ্বনেতৃবৃন্দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় হবে। এশিয়া প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার যুক্তরাজ্য মনোনিত আঞ্চলিক দূত  ফ্লাহার্টি বলেন, কোপ২৬-এ জলবায়ু ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে- জলবায়ু ইস্যুতে পদক্ষেপ নিতে গোটা বিশ্বকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশের ‘বলিষ্ঠ নৈতিক’ আওয়াজ তোলার ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘(জলবায়ু পরিবর্তনের) বিরুপ প্রভাব প্রশমনে নেতৃত্বের আসন থেকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতি গড়ে তোলার ব্যাপারে বিশ্বকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।’
গত সপ্তাহে  ফ্লাহার্টি বাসস-এর কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও অপর এক স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে এক সাক্ষাৎকার প্রদানকালে এ সব কথা বলেন।
কোপ-২৬ এর প্রধান আয়োজক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসন এর আগে বলেন, তিনি আশা করেন যে- ‘এই ঘটনা মানবতার ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হয়ে থাকবে।’ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ১৩ অক্টোবর ও ১২ নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলনটিতে যোগ দিবেন। বর্তমানে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী, সেই দেশগুলোকে ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছে।
সিভিএফ এর পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরুপ প্রভাব প্রশমনে সহায়তার জন্য এই তহবিলের অর্ধেক প্রদানেও দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিকে সমর্থন করে  ফ্লাহার্টি আরো বলেন, ‘এই সম্মেলনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পদক্ষেপ নেয়ার পথ নিশ্চিত করতে সিভিএফ সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের আরেকটি সুযোগ করে দেবে।’
এর আগে বাংলাদেশ কোপ-২৬ এর পাশাপাশি একটি সিভিএফ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি সম্পর্কে দূত বলেন, কোপ সভাপতি হিসেবে প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্যের গোচরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে পরামর্শ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।  
কোপ২৬ এর সাইডলাইন ইভেন্টগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিভিএফ এর সাথে আমাদের (কোপ-২৬) চমৎকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আশাবাদী যে- কোপ-২৬ সম্মেলনে সিভিএফ এর দাবি শোনা হবে।’

জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কে ফ্লাহার্টি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে যথাযথ প্রবেশাধিকার পেতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করতে চায়। 
দূত বলেন, আন্তর্জাতিক দাতাদের উৎসাহিত করে প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক জলবায়ু তহবিল বাস্তবায়ন করার জন্য ব্রিটেন কঠোর পরিশ্রম করছে।
তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক দাতা কমিউনিটি এজেন্সিকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে এবং গ্লাসগোতে (কোপ ২৬ এর সময়) ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য পূরণ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। ফ্লাহার্টি বলেছেন, কোপ ২৬ এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে যুক্তরাজ্য তার নিজস্ব জলবায়ু অনুদান দ্বিগুণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একই কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনও মার্কিন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সহায়তা দ্বিগুণ করার  ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং কানাডা এবং জার্মানিও জি-৭ এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের পথ অনুসরণ করে জলবায়ু তহবিলে বর্ধিত অনুদানের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
ফ্লাহার্টি বলেন, আজ পর্যন্ত আমরা ১০০ বিলিয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নই, কিন্তু এটি এখন হাতের নাগালে মধ্যে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, যেসব দেশ বিশ্ব উষ্ণায়নে প্রাথমিকভাবে দায়ী তাদের কাছ থেকে জলবায়ু অর্থায়নে এখনও অনেক বেশি পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে এবং আমি আশা করব যে কোপ ২৬ জলবায়ু অর্থায়নে আরও বেশি তহবিল সরবরাহ দেখতে পাবে।
ফ্লাহার্টি আরও স্বীকার করেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থ অবশ্যই প্রশমন এবং অভিযোজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে যখন ‘ক্ষয়ক্ষতি এবং লোকসান’ মূল সমস্যা যা কোপ ২৬ এর সময় সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোপ ২৬-এ কী করা যেতে পারে তা নিয়ে ব্যবহারিক আলোচনা (ক্ষয়ক্ষতি এবং লোকসান) করার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য তার নিজস্ব আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থ প্রশমন এবং অভিযোজনের মধ্যে কমবেশি সমান ভারসাম্য তৈরি করে এবং অন্যান্য দাতাদের এটি করতে উৎসাহিত করে।
জ্বালানি রূপান্তর সম্পর্কে ফ্লাহার্টি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে জীবাশ্ম শক্তি থেকে পুনর্নবীকরণযোগ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরিত করতে যুক্তরাজ্য ঢাকার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা ব্যবহারে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দূত বলেন, ব্রিটেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতায় দলবদ্ধ ভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, এখানে জলবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ রয়েছে তবে  কোম্পনিগুলো তাদের বিনিয়োগের ফেরত পেতে পারে এমন একটি স্পষ্ট সরকারী সংকেত অবশ্যই থাকতে হবে। 
দূত বলেন, যুক্তরাজ্য তার জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ স্থানান্তরে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে লন্ডন আশা করছে বাংলাদেশ আর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে না। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়েও তাদের নিজস্ব ‘নেট জিরো’ কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে এবং তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ করার আহ্বানে  যোগ দিতে হবে।
গ্লাসগোতে কোপ ২৬ এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ফ্লাহার্টি এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সরকার, ব্যবসায়ি এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করছেন। কোপ ২৬ এর আগে দক্ষিণ এশিয়ায় তার শেষ সফর হিসাবে তিনি ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করেন।
 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন