BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৭

গোপালগঞ্জে হস্তশিল্পে আশ্রয়ণের নারীদের কর্মসংস্থান

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ১৩ আগস্ট, ২০২২ (বাসস) : গোপালগঞ্জের দেবগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটি একটি ইউনিক আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়া উপজেলার দেবগ্রামে অবস্থিত। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মহীন ৫৪ জন নারীকে ৩ মাস ব্যাপী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ৩ মাসের প্রশিক্ষণ পেয়ে এস নারীদের কর্মসংস্থানের  সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতি মাসে হস্তশিল্পে মাফলার ও চাদর তৈরি  করে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন। তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। স্বামী, সন্তান ও পরিবার পরিজন নিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দে দিন কাটাচ্ছেন।
 দেবগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নাজমা বেগম (২৪) বলেন, আমরা আগে কোটালীপাড়া উপজেলার ভট্টের বাগান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বাস করতাম। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চলত না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দিয়েছেন। এখন ঘর ভাড়া গুনতে হয়না। আমি কর্মহীন ছিলাম। গত ফ্রেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাংলাদেশ ইয়ূথ ফার্স্ট কন্সান্স আমাদের আশ্রয়ণেই হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আমি এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ  করেছি। এখন ঘরে বসেই নিজের হাতে মাফলার ও চাদর তৈরি করি। বাংলাদেশ ইয়ূথ ফার্স্ট কন্সান্স প্রতিটি মাফলারে ২ শ’ টাকা ও চাঁদরে ৫ শ’ টাকা মজুরি দেয়। স্বামী, সংসার সামলিয়ে প্রতিমাসে এখান থেকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করতে পারছি। এসে সংসারে স্বাচ্ছন্দ এসেছে। স্বামী একটি ভ্যান কিনেছে। এ থেকে তার প্রতিদিন ৫ শ’ থেকে ১ হাজার আয় হচ্ছে। দু’ জনের রোজগারে আমরা সুখেই আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সুখের ঠিকানা রচনা করে দিয়েছেন। এজন্য তাঁর সুস্বাস্থ্য , সাফল্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করি।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পারভীন বেগম (৪৫) বলেন, শুধু হস্তশিল্পে কাজ করলে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা যায়। কিন্তু আমরা সংসার সামাল দিয়ে অবসর সময়ে কাজ করি। তাতেই ৬ হাজার টাকা আয় করতে পারি। হস্তশিল্পে কাজ শিখে এখন আমরা আত্মপ্রত্যয়ী। আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা উদ্যোক্তা হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব।  
১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও দেবগ্রাম আশ্রয়ণের বাসিন্দা শামীমা বলে, আমি হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। পড়াশোর ফাঁকে ফাঁকে হস্তশিল্পে কাজ করি। এ থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা মজুরি পাই। এ টাকা দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাই। বাড়তি টাকা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করি। এ সঞ্চয়ের পুঁজি দিয়েই একদিন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে। নিজের অভাব অনটন দূর করব। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে অবদান রাখব।  
বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইয়ূথ ফার্স্ট কন্সান্সের প্রোগ্রাম অফিসার নয়ন দাস বলেন, আমরা দেবগ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৪ জন নারীকে হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এদের মধ্যে ৪৮ জন হস্তশিল্পে কাজ করছেন। আমরা তাদের সুতা, উল ও হস্তশিল্পের ফ্রেম দিয়েছে। তারা হস্তশিল্পে মাফলার ও চাদর তৈরি  করে। আমরা প্রতিটি চাঁদরে ৫ শ’ টাকা ও মাফলার প্রতি ২ শ’ টাকা মজুরি দেই। তাদের কাছ থেকে আমরা চাঁদর মাফলার বুঝে নিয়ে আসি। এগুলো আমরা এখন স্টক করছি। আগামী শীত মৌসুমে এ গুলো শীত প্রধান দেশ অস্ট্রেলিয়া ও কনাডায় পাঠাব। এ ব্যাপারে দেন দরবার আমরা ঠিক করে রেখেছি। আগামী নভেম্বরে এসব পণ্য অস্ট্রেলিয়া ও কনাডা পাঠানো হবে।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদাউস ওয়াহেদের সহযোগিতায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কর্মহীন নারীদের এ  প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারীরা হস্তশিল্পে কাজ করে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এতে  তাদের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংসারের স্বচ্ছলতা এনেছেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, দেবগ্রাম আশ্রয়ণে হস্তশিল্পে নারীদের উৎপাদিত পণ্যকে জেলার ব্রান্ডিং পন্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। হস্তশিল্পে তারা মাফলার, চাঁদর ও অন্যান্য শীতের পোশাক তৈরি করে। এগুলো তৈরি করে তারা কর্মসংস্থানেরে পথ খুঁজে পেয়েছেন। জেলার প্রতিটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে কর্মহীন নারীদের প্রশিক্ষণ দেয় হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন