BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৯:৩১

গোপালগঞ্জের দেবোগ্রাম আশ্রয়ণে অন্ধত্ব মোচন কার্যক্রম শুরু

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ১৩ আগস্ট, ২০২২ (বাসস) : গোপালগঞ্জের ইউনিক আশ্রয়ণ কেন্দ্র দেবোগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী কোটালীপাড়া উপজেলার  অন্তর্গত একটি ইউনিক আশ্রয়ণ কেন্দ্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা চক্ষু হাসপাতাল এ আশ্রয়ণ কেন্দ্র থেকেই বাসিন্দাদের ছানি ও ডায়বেটিস জনিত অন্ধত্ব মোচন কার্যক্রম শুরু করেছে।  গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমের আওতায় ওই আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ২ শ’  নিবাসীর চক্ষু পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ, রক্তের সুগার পরীক্ষা শেষে  ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এখান থেকে ২০ জন ছানি রোগী বছাই করা হয়। ছানি রোগীদের আশ্রয়ণ কেন্দ্র থেকে হাসপাতালের গাড়ি করে ১৩ ও ১৪ আগস্ট চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হবে। ১৫ আগস্ট চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে তাদের ছানি অপারেশন করা হবে। তারপর ফলোআপ ও কাউন্সিলিং শেষে আবার চক্ষু হাসপাতালের গাড়িতে করে তাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। এ ভাবে গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার ৬০টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আশ্রয়ণ কেন্দ্র থেকে ছানি ও ডায়বেটিস জনিত অন্ধত্ব মোচনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
এসব তথ্য জানিয়ে ওই হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. নাহিদ ফেরদৌসী বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জায়গাসহ ঘর  উপহার দিয়েছেন। এ শ্রেণীর মানুষ সুবিধা বঞ্চিত। তাদের মধ্যে সচেতনতা কম। তারা চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পায় না। তাই আমরা দেবোগ্রাম আশ্রয়ণ কেন্দ্রে গিয়ে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রম শুরু করেছি। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা চক্ষু পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ, রক্তের সুগার পরীক্ষা শেষে  ওষুধ ও চশমা বিতরণ করছি। এখানে ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগী বেশি চিহ্নিত হয়েছে। ডায়বেটিস জনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধে আমরা তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে যাব। এছাড়া অপারেশনের মাধ্যমে ছানি রোগীদের অন্ধত্ব রোধ করব। এভাবে আমরা  গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের সব বাসিন্দার অন্ধত্ব মোচন করব। আমরা দেবোগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্প থেকে জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এটি শুরু করেছি।
দেবোগ্রাম আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা জরিনা বেগম (৫৭) বলেন, আমি অসহায়। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘর দিয়েছে। এ ঘরে বাস করছি। ছাগল, হাসঁ-মুরগি পালন করে জীবন চালিয়ে নিচ্ছি। এখন চোখে ভালো  দেখতে পারি না। চোখের ডাক্তার দেখানোর সামর্থ আমার নেই। ডাক্তাররা আমাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে এসে আমার চোখ পরীক্ষা করে ছানি পেয়েছে। তারা আমার চোখের ছানি ১৫ আগস্ট বিনামূল্যে অপারেশন করে দেবে বলে জানিয়েছে । অপারেশনের পর চোখের আলো পুরোপুরি ফিরে পাব। ঘর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে যারা চোখের চিকিৎসা করে দিচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর  কাছে দোয়া করছি।
দেবোগ্রাম আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা রুমা বেগম বলেন, আমার ডায়বেটিস ধরা পড়েছে। চোখে কাছে দেখতে সমস্যা হয়। তাই চোখ পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা ড্রপ, ওষুধ ও চশমা দিয়েছে। তারা নিয়মিত চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে চক্ষু পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। এতে আমি খুব উপকৃত হয়েছি। তাদের পরামর্শে আমার চোখ সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করছি।
দেবোগ্রাম আশ্রয়ণের বাসিন্দা তানজিলা বেগম (৪৪) বলেন, আমরা এ আশ্রয়ণে ১ বছর বসবাস করছি। এরমধ্যে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে কেউ আশ্রয়ণে আসেনি।  এ প্রথম চক্ষু হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা  আমাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে এসে সবার চক্ষু পরীক্ষা করেছে। আমার চোখ পরীক্ষা, প্রেসার পরিমাপ ও রক্তের সুগার পরীক্ষা করে দিয়েছে। কাছে দেখতে সমস্যা হত। তাই তারা বিনামূল্যে ওষুধ, ড্রপ ও চশমা দিয়েছে। ঘরে কাছে স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে আমরা  খুব উপকৃত হয়েছি। এতে আমরা অনন্দিত। আমি এটি অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়