BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ২৬ মে ২০২২, ০৯:৪৫

কেঁচো সারে স্বাবলম্বী, উদ্যোক্তা মারজাহানের মুখে হাসি

ঢাকা, ২৬ মে, ২০২২(বাসস) : রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা মারজাহান বেগম কেঁচো সার উৎপাদন করেন। এখন চোখে-মুখে তার নানান স্বপ্ন আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর। স্বামীর আয়ে সংসারে চললেও সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু এখন তার কোনো সমস্যা নেই। নিজের আয়ের টাকাতেই সন্তানদের পড়াশোনা চলে যায়। 
সম্প্রতি এইপ্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার কথা জানালেন মারজাহান। 
 তিনি জানান, তার স্বামী একজন সরকারি চাকরিজীবী। দুই ছেলে নিয়ে তাদের সংসার। বসবাস করেন জেলা শহরের সিএ অফিস পাড়া এলাকায়। তাদের দুই ছেলে ঢাকায় একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে। এ কেঁচো সার বিক্রি করে তাদের লেখা-পড়ার খরচের চাহিদা মেটাচ্ছেন এই গৃহিণী।
 মারজাহান বেগম বলেন, কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদনের বিষয়টি তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তারপর স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। 
এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। তার ভাষ্য, প্রথমে একটি ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করি কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ। প্রথমে বাড়ির পাশেই একটি জায়গায় শুরু করি। এখন পাশেই আরেকটি জায়গায় বড় আকারে স্থান নির্বাচন করে কাজ করেছি।
তিনি বলেন, কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রতিমাসে আয় করছেন ২০ হাজার টাকা। তবে তা আরও বাড়বে। 
এই সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মারজাহান বেগম বলেন, কেঁচো সার উৎপাদন করতে প্রথমে কাঁচা গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, বিষমুক্ত সবুজ লতা-পাতা, তরকারির খোসা, ফলের খোসা এবং কলা গাছের কুচি দরকার হয়। আর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির মূল উপাদান অস্ট্রেলিয়ান অ্যাজোজিক কেঁচো সংগ্রহ করতে হয়। 
তিনি বলেন, এ কেঁচোগুলো সংগ্রহ করি স্থানীয় একটি এনজিও থেকে। এ কাজে স্বামীও আমায় সহযোগিতা করছেন। 
মারজাহান বলেন, অল্প পরিমাণ জায়গায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকার মতো আয় হচ্ছে। কেঁচো সার বিক্রি করে টানাপোড়েনের সংসারের অভাব অনেকটাই ঘুচেছে। 
‘স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে দিন কাটছে। কেঁচো সারের পাশাপাশি নার্সারি ও হাঁসের খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে ভবিষ্যতে,’  যোগ করেন তিনি।
কেঁচো সার বিক্রির ব্যাপারে এই উদ্যোক্তা বলেন, স্থানীয় চাষিরা খুচরা ও পাইকারি দামে বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যান। তাছাড়া বড় বড় সারের দোকানগুলো পাইকারি দামে বাড়িতে এসে সার সংগ্রহ করে। 
নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ, পরিশ্রম ছাড়া কোনো পেশায় সফল হওয়া যায় না। তাই মনযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা দরকার। তাহলে পরিশ্রম ফল হিসেবে সফলতা ধরা দিবে এবং অভাব ঘুচে যাবে এক নিমেষে। 
এক্ষেত্রে বেকার তরুণ-তরুণীরা এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 
যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, যেকোনো বেকার যুবক অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজি দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারে। এক্ষেত্রে গৃহিণী মারজাহান তাদের জন্য  বড় এক  উদহারণ। 
তিনি আরো বলেন,‘অধিক ফসল উৎপাদনে এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেউ কেঁচো সার উৎপাদন করতে চাইলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে সব সহযোগিতা পাওয়া যাবে।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন