BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৭

ঐতিহ্যবাহী ইলিয়টগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ : দূর-দূরান্তের মুসল্লীরা আসেন জুমা পড়তে

॥ কামাল আতাতুর্ক মিসেল ॥
কুমিল্লা (দক্ষিণ), ২১ জানুয়ারি, ২০২২ (বাসস) : জেলার দাউদকান্দি উপজেলার প্রাচীনতম ইলিয়টগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ। মসজিদটির বয়স প্রায় দুইশত বছর। মসজিদটি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ বাজার বাসস্ট্র্যান্ড থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দক্ষিণে অবস্থিত। প্রতি শুক্রবার বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জুমার নামায পড়তে ভিড় জমায় এখানে
মসজিদটির ভিতর ও বাহিরে রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য বিভিন্ন কারুকাজ করা। চিনা মাটির প্লেট ভাঙ্গা দ্বারা বিভিন্ন ডিজাইনে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির চারপাশের ওয়ালগুলো ২ ফুট পুরো। যার কারনে শীতকালে মসজিদের ভিতর গরম আর গরমকালে ঠান্ডা অনুভূতি হয়। পুরো মসজিদ টি চুনশুরকি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ভিতরের মিম্বরটিতে রয়েছে সুনিপুণ হাতে নির্মিত অপূর্ব কারুকাজ। যে কেউ একবার দেখলে পরে মন ভরে যায় সৌন্দর্যের কারনে। মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করা হয় ১৩০৩ বাংলা ও ১৮৯৬ ইংরেজি সালে। যা মসজিদের সামনের দেয়ালে পূণঃসংস্কারের বাংলা সন লেখা রয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় ধর্মপ্রাণ ও তৎকালীন প্রভাবশালী দানবীর ব্যক্তি হাজী মরহুম ওয়ারিশ হোসেন মুন্সী ও তার ছোট ভাই মরহুম বেলায়েত হোসেন মুন্সী মসজিদটি নির্মাণ করেন। স্থানীয় এলাকার নাম অনুসারে ইলিয়টগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ নামে মসজিদটি নামকরণ করা হয়। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট, প্রস্থ ৫০ ফুট। একসঙ্গে ৮০/৯০ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত মসজিদটির ভেতরে অপরুপ কারুকাজ রয়েছে। মসজিদের ছাদের চার কোনায় চারটি ছোট ছোট মিনার রয়েছে।
মসজিদটি কুমিল্লা শহর থেকে পশ্চিমে ৩৮ কিলোমিটার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ বাস স্টেশনের ৫০০ ফুট দক্ষিণে অবস্থিত।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাজী ওয়ারিশ হোসেন মুন্সী মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন নিঃসন্তান আর বেলায়েত হোসেন মুন্সীর মৃত্যুকালে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে যান। বেলায়েত হোসেন মুন্সীর মৃত্যুর পর তার মেঝ ছেলে হাজী কামাল হোসেন মুন্সী মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মসজিদের সবধরনের দেখাশোনা করতেন। পরবর্তীতে মসজিদের মুসুল্লীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় তার আমলে মসজিদটি একতলা থেকে দ্বিতীয় তলা উন্নীতকরণ কাজসহ মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। পরবর্তীতে কামাল হোসেন মুন্সীর মৃত্যুর পর তার ছেলে আনোয়ার হোসেন রানা মুন্সী মসজিদটি এখন দেখাশোনা করছেন। বর্তমান সময়ে এসে মসজিদটির দক্ষিণ পাশে মসজিদের খালি জায়গাটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত করে একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করেন ভবটির নিচ তলায় মসজিদের খতিব থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং দ্বিতীয় তলায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। মাদ্রাসাটির নামকরণ করা হয় ইলিয়টগঞ্জ বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বর্তমানে ৫৫ জন ছাত্র রয়েছেন।
মসজিদটির বর্তমান সেক্রেটারি মুন্সী আনোয়ার সাহাদাত রানা বাসসকে জানান, মরহুম ওয়ারিশ হোসেন মুন্সী ও মরহুম বেলায়েত হোসেন মুন্সী তারা ছিলেন আপন ভাই। মসজিদটি নির্মাণের পর মসজিদটির নাম দেন ইলিয়টগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ। তৎসময়ে এলাকায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোন মসজিদ ছিল না। তাই তিনি এলাকার মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য নিজেদের উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির উওরপাশে রেখেছেন মসজিদের মোতাল্লিনদের থাকার জন্য একটি পাকাঘর এবং মসজিদের মুসুল্লীদের অযুও গোসল করার জন্য তৎসময়ে একটি পুকুর খনন করে যান। যাতে রয়েছে পাকা ঘাট। তবে কালের বিবর্তনে মসজিদের পুকুরটি বর্তমানে বাজারের ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে।
প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বাসসকে বলেন, দাউদকান্দির  ইলিয়টগঞ্জ মুন্সী বাড়ির কৃতি সন্তান ধর্মপ্রাণ ও তৎকালীন প্রভাবশালী দানবীর ব্যক্তি হাজী মরহুম ওয়ারিশ হোসেন মুন্সী ও তার আপন ছোট ভাই মরহুম বেলায়েত হোসেন মুন্সী মসজিদটি  প্রায় দুইশত বছর আগে নির্মাণ করেন। পুরো মসজিদটি চুন-সুরকী দিয়ে নির্মিত মসজিদটির ভেতরে অপরুপ কারুকাজ রয়েছে। মসজিদটি প্রাচীনতম হওয়ায় এটি দেখার জন্য প্রতি শুক্রবার বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জুমার নামায পড়তে ভিড় জমায়।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন