শেখ হাসিনা জনগণের আস্থার প্রতীক : সরকারি দল

196

সংসদ ভবন, ৩ মার্চ, ২০১৯ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জনগণের আস্থার প্রতীক উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি ছাড়া দল যেমন অসহায় দেশও তেমনি অসহায়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর এ আলোচনা শুরু হয়। ওই দিন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আ. স. ম ফিরোজ তা সমর্থন করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ১৯তম দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সরকারি দলের মোস্তাফিজুর রহমান, তাহজিব আলম সিদ্দিকী, ইকবাল হোসেন, ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, সাহারা খাতুন, সুবর্ণা মোস্তফা, বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, শিরীন আহমেদ, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নাজমা আকতার ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় সরকার দেশের নিরন্ন অসহায় মানুষের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, এর ফলে দেশে ভিক্ষাবৃত্তি কমেছে। শিক্ষা খাতে সরকারের বিশেষ নজর দেয়ার ফলে এখন শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান থেকে কার্গো নামানো এবং বেল্ট থেকে যেন সময় মতো লাগেজ পায় এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিমানের সার্ভিসের মানোন্নয়ন করা ও বিমানে আস্থার সংকট কোথায় তা খুঁজে বের করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একটি কার টার্মিনাল নির্মাণে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই টেন্ডার ওপেন হবে। এখানে ২৬টি লাগেজ বেল্ট থাকবে এবং বডিং ব্রিজও ২৬টি থাকবে। অটোমেশন পদ্ধতিতে সকল মালামাল আসবে। আগামী ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে এই কাজটি শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্থান নির্ধারণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো এখন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। আরো উন্নয়ন চলমান রয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেনে তা সফল করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করতে হবে এবং বেসিক ব্যাংকসহ দুর্নীতির রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম রোধ করে যারা অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
নির্বাচন ভন্ডুল করাই বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নির্বাচনে বাণিজ্য তাদের ভরাডুবি হয়েছে। তারা এখন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করলেও কোন ধরনের তথ্য প্রমাণ দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ১৪ দলের ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক। তিনি ছাড়া দল যেমন অসহায় দেশও তেমন অসহায়। তাঁর নেতৃত্বে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে ২ থেকে ৪ জন ছাড়া কেউ প্রশ্ন তুলেনি। দেশের সকল মানুষ এই নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে জেতার জন্য কোন কাজ করেনি, এ কারণে ৮টি আসন পেয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখন দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে এসেছে। এখন আর তেমন ভিক্ষুক চোখে পড়ে না। তিনি ভিক্ষুক ও হিজড়াসহ দেশের প্রান্তিক মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করছেন। সারাদেশের মানুষ উনাকে মেনে নিতে কষ্ট হয় না। সবাই বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনা এবার ফাইনাল টাস্ক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। কারা মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের তিনি ঠিকই খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেবেন।
সরকারি দলের সদস্য সাহারা খাতুন বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ উৎসাহমূলক, প্রেরণাদায়ক ও সরকারের উন্নয়নের প্রামাণ্য দলিল, যা থেকে মানুষ দেশের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাবে। তাঁর ভাষণ দেশের মানুষের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের উন্নয়নের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে। শেখ হাসিনা সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বিরোধীদলের সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণটিকে তিনি ৩২ ভাগে ভাগ করেছেন। তাঁর ভাষণে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁর ভাষণে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন দিক-নির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নির্যাস ছিলনা।

image_printPrint