বাসস দেশ-২৪ : বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

522

বাসস দেশ-২৪
নারায়ণগঞ্জ-উচ্ছেদ অভিযান
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নারায়ণগঞ্জ, ২৯ মে, ২০১৮ (বাসস) : জেলার পাগলা মুন্সিখোলা এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত কাঁচা-পাকা, আধাপাকা স্থাপনা ও বালু ফেলে নদীর তীর ভরাট করা অংশ মাটি খনন করে উচ্ছেদ করা হয়। এসময় বেশ কিছু পরিমাণ বালু পাথর জব্দ করে নিলামে বিক্রি করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর সদরঘাট নদী বন্দরের যুগ্মপরিচালক আরিফ উদ্দিন, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঞ্জুর কাদেরসহ বিআইডব্লিউটিএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যের উপস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি এক্সেভেটর( ভেকু) দিয়ে মাটি খনন করে নদী পূর্বাবস্থায় আনা হয়। নদী দখল করে গড়ে তোলা টিনসেড, আধাপাকা, পাকা স্থাপনাও গুড়িয়ে দেয়া হয়।
সকালে বুড়িগঙ্গা নদী তীরের মুন্সিখোলা এলাকায় নদী থেকে মালামাল ওঠানামা করার জন্য নির্মিত বেশ কয়েকটি জেটি উচ্ছেদ করে দেয়।
পরে মুন্সিখোলা পুলিশ ফাড়ি সংলগ্ন ওয়াকওয়ের উত্তরপাশে নদী তীরে গাছের খুুঁটি গেড়ে বালু ইট, সুরকী ফেলে নদী ভরাট করে দখল করা প্রায় ১৫ শতাংশ জমি ভেকু দিয়ে খনন করে মাটি অপসারন করা হয়।
পরে নদীর সীমানা পিলারের ভেতরে ঢুকে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করায় ওয়াহিদ এন্ড ব্রাদার্সের পাঁচফুট প্রশস্ত এবং দেড়শ ফুট লম্বা স্থাপনা ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। পাশের আরো কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নদী মাটি দিয়ে ভরাট করায় তা খনন করে মাটি অপসারণ করা হয়।
এছাড়াও পাগলা বাজার এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠা রশিদ এন্টারপ্রাইজের দখলে থাকা একটি জেটি, ভরাটকৃত নদীর মাটি অপসারণ ও কয়েটি টিনসেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
বিআইডিব্লিউটিএর সদরঘাট নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন জানান, চারদিন ব্যাপী উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাগলা মুন্সিখোলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ও ওয়াকওয়ে দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর পোস্তগোলা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রভাশালী ব্যাক্তিরা বালু, পাথর, ইট, সুরকী, কয়লা, গাছেরগুড়ি ব্যাবসায়ীরা ওয়াকওয়ে দখল করে, কোথাও-কোথাও রেলিং ভেঙ্গে গাছের গুড়ি গেড়ে বালু ইট সুরকী ফেলে নদী ভরাট করে।
বাঁশের খুঁটি গেড়ে জেটি বানিয়ে মালামাল লোডআনলোড করে আসছে। যার কারণে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে বিনষ্ট হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তি জানান, পাগলা মুন্সিখোলা এলাকায় ওয়াকওয়ের পাড়ে নদী তীর দখল করে বালু পাথরের ব্যবসা করে আসছিলো। সেগুলো উচ্ছেদ করে বেশ কিছু পরিমান বালু পাথর জব্দ করা হয়। সেগুলো সাড়ে তিনলাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নদীর সীমানা পিলারের ভেতরে নির্মিত পাকা, আধাপাকা, টিনসেটসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চারদিন ব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযানে যে সব স্থাপনা পড়বে তা উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে জেল জরিমানাও করা হচ্ছে।
বাসস/সংবাদদাতা/এমএএস/২০২০/কেজিএ