২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

338

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ (বাসস) : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘২০৩০ সাল নাগাদ ম্যালেরিয়া নির্মূলে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, আমি আশা করছি ওই সময়ের মধ্যে আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। কারণ অল্প সময়ে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করতে পারি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোকিত করতে পারি, তাহলে ম্যালেরিয়া কেন নির্মুল করতে পারব না?” তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাগুলোতে শুধু মশারী বিতরণই যথেষ্ঠ নয়, বরং তা জনগণ সত্যিকার অর্থে ব্যবহার করছে কি-না সেদিকে আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আজ বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ’ম্যালেরিয়া নির্মূলে বাংলাদেশ : বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মুল কর্মসূচি, দৈনিক সমকাল ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও বেন-ম্যাল ও ডেঙ্গু কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক-এর কমিঊনিকেবল ডিজিজেস (ম্যালেরিয়া) ও ওয়াশ কর্মসূচির প্রধান ডা. মোকতাদির কবির।
স্বাস্থ্যখাতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি ম্যালেরিয়া নির্মূলে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তুলতে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য মন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের আহবান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁঁকিতে রয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে। প্রতি বছর এই রোগে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর প্রায় ৯৮% সংঘটিত হয়ে থাকে ১৩টি জেলায়। জেলাগুলো হচ্ছে: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং কুড়িগ্রাম। তবে সবচেয়ে বেশী প্রকোপ পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি-এই তিন জেলায়।
সমকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজেস কন্ট্রোল বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কমিউনেকবল ডিজিজেস সার্ভাইল্যান্স-এর মেডিকেল অফিসার ডা. মিয়া সেপাল, ব্র্যাকের কমিঊনিকেবল ডিজিজেস, ওয়াশ ও ডিএমসিসি কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ।

image_printPrint