বাসস সংসদ-৫ : সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন রওশন এরশাদ

বাসস সংসদ-৫
রওশন-সমাপনী-বক্তৃতা
সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন রওশন এরশাদ
সংসদ ভবন, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ (বাসস) : আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ।
তিনি আজ দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য রক্ষা করি এবং যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা না করি। সুষ্ঠু সমাজ গড়তে হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা জরুরি।’
বিরোধী দলের নেতা বলেন, মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক এই সংসদ। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও এই সংসদে পরিচালিত হয়। এই সংসদের পবিত্রতা রক্ষা করতে পেরেছি, এটাই বড় কথা।
তিনি বলেন, বিগত নবম সংসদের সাথে দশম জাতীয় সংসদের তুলনা করা হলে দেখা যাবে দশম সংসদই ছিল সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এখানে জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তা সমাধান হয়েছে।
আগামী প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের সম্মানের কথা বিবেচনা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের করা উচিত। তিনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের দাবি জানান।
বিরোধী দলের নেতা আগামী প্রজন্মকে অতিমাত্রায় স্মার্টফোন ব্যবহারে নিরোৎসাহিত করতে রাত ১২টার পর ফেইসবুক বন্ধের আহ্বান জানান।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশ এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে গেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে অতীতের মতো এবারো নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে ঐক্যফ্রন্টের আহবানে সাড়া দিয়ে আলোচনায় বসাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে সব কিছু হতে হবে সংবিধানের মধ্যে থেকে ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবম ও দশম জাতীয় সংসদ এবং সরকারের কেন্দ্র বিন্দুতে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশ যেভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল নবম জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তা থেকে তিনি দেশকে উঠিয়ে এনেছেন। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড় করিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মতো আবারো বিএনপি-জামায়াত চক্র নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির এই ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন ড. কামাল হোসেন। সাত দফা দাবির আঁড়ালে তারা একটি অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করে একটি অস্বাভাবিক সরকার আনার পাঁয়তারা করছে। দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এদের ব্যাপারে কঠোর থেকে তা প্রতিহত করতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন করতে হবে।
চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, সরকারি এবং বিরোধী দলের সহাবস্থানের কারণে এই সংসদ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এই সংসদের বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৪২ দিন এবং সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩৮ দিন সংসদে ছিলেন। সরকারি এবং বিরোধী দলের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকায় দেশে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়েছে।
জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীও আলোচনায় অংশ নেন।
বাসস/এমএসএইচ/২১২০/বেউ/-আসচৌ