মিয়ানমারের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে এশিয়া সফর করবেন জাতিসংঘ দূত

119

ইয়াঙ্গুন, ৯ এপ্রিল, ২০২১ (বাসস ডেস্ক) : মিয়ানমারে জান্তার অভিযানে নিহতের সংখ্যা শুক্রবার ৬০০ পেরিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বিশেষ দূত এ সংকট মোকাবেলায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোতে এশিয়া সফর করবেন। খবর এএফপি’র।
নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ১ ফেব্রুয়ারি সেনা বাহিনী কর্তৃক বেসামরিক নেতা অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে প্রতিদিনই বিক্ষোভ লেগে থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও চাপের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রানার বার্জেনার এ সফর করবেন।
বার্জানারের ভ্রমণের সঠিক বিবরণ ও সময় এখনো নিশ্চিত হয়নি, তবে তিনি থাইল্যান্ডে তার যাত্রা শুরু করবেন এবং চীনও যাবেন।
রাজনৈতিক কারাবন্দি সহায়তায় নিয়োজিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিস্টেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার-এর তথ্যানুসারে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬১৪ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা ও প্রায় ৩ হাজারকে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার ভোরে সেখানে আরও রক্তক্ষরণ ঘটে, উদ্ধারকর্মীরা ইয়াঙ্গুনের উত্তর-পূর্বে ৬৫ কিলোমিটার (৪০ মাইল) উত্তর-পূর্ব বাগো শহরে প্রতিরক্ষা ব্যারিকেড ভেঙে কমপক্ষে চার জন নিহত হওয়ার খবর পান। জাতিসংঘের অধিকার কর্মকর্তারা বলছেন যে সামরিক বাহিনী রকেট চালিত ও খন্ডিত গ্রেনেড, ভারী মেশিনগান এবং স্নাইপারসহ ভারী অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে।
সামরিক জান্তা সাংবাদিকদের ওপরও গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিজিমা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা থিন থিন অং এবং আরেক প্রাক্তন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। নিউজরুম থেকে সাংবাদিকদের গ্রেফতারের সময় ক্রমাগত রাত্রে মোবাইল ডেটা ও ইন্টারনেট শাটডাউন করে দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডাস জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৬০ জন মিডিয়াকর্মীকে অভ্যুত্থানটির কাভারেজ দেওয়ার সময় আটক বা অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মিয়ানমারের এই হিংসাত্মক কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন রাষ্ট্রীয় রতœ কোম্পানির ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে।
জাতিসংঘের দূত বার্জেনার জেনারেলদের সাথে মুখোমুখি বৈঠক চান তবে তিনি মিয়ানমার সফরের অনুমতি পাননি। তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেছেন ‘তিনি অবশ্যই গণতান্ত্রিক পথে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অবদান রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সাথে পুনরায় আলোচনা শুরু করায় প্রস্তুত রয়েছেন।’
বার্জেনার আসিয়ান ব্লকের আঞ্চলিক সদস্য দেশগুলো পরিদর্শন করবেন বলেও তিনি আশা করেছেন।