জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ-সুইডেন একসঙ্গে কাজ করবে

150

ঢাকা, ১৪ মার্চ, ২০২১ (বাসস) : সুইডেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিননহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা মন্ত্রী ওলসন ফ্রিধ আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে তারা বাস্তুসংস্থান ব্যবস্থাপনা, টেকসই পরিবেশ, স্থলজ ও জলজ প্রাণীসহ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন ধরণের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলাসহ অন্যান্যবিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজি, যুগ্মসচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক ও পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলীসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুইডিশ দূতাবাস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কথা উল্লেখ করে মো. শাহাব উদ্দিন সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ওলসন ফ্রিধকে শুভেচ্ছা জানান।
সুইডেন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশগুলোর অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন (বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান) থেকেই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান।
মন্ত্রী বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুইডিশ সরকারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
শাহাব উদ্দিন জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে এক কোটি চারা রোপণ করেছে, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে এনভাইরনমেন্ট ভালনারেবিলিটি
ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপ্টেশনের আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করেছে।
বৈঠকে দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সুইডেনের মন্ত্রী পের ওলসন ফ্রিধ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের অভিনন্দন জানান।
ধরিত্রীকে রক্ষায় সুইডেনের শক্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
ফ্রিধ বাংলাদেশের ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ এবং অষ্টম-পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন।
তিনি মন্ত্রীকে স্টকহোমে মানব পরিবেশ বিষয়ক ইউএন সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।