বাজেটে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেয়ার দাবি

211

ঢাকা,৩ মার্চ,২০২১ (বাসস) : করোনা মহামারির ক্ষতি মোকাবেলায় দেশে নতুন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাজেটে সহায়তার দেয়ার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে এসব উদ্যোক্তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা দেয়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত সুবিধা দেয়ার দাবি জানিয়েছে দেশের শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর পক্ষ থেকে নতুনও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে এসব আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নতুন উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, তারা একটু বড় হয়ে যাক, তখন কর আরোপ করতে পারবেন।
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে ৩৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। কোম্পানির করহার বছরে আড়াই শতাংশ করে আগামী তিন বছরে সাড়ে সাত শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবেশি অন্যান্য দেশেও কর্পোরেট করহার বাংলাদেশের চাইতে অনেক কম। এছাড়া কর্পোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কর অর্ধেক কমানো, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলে তাতে কর সুবিধা দেয়া, পুরো আয়কর ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া ভ্যাটে রিফান্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের পরিবর্তে একমাস করা এবং প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি জরিমানা নিচের সারির কর্মকর্তাদের হাতে দেয়ায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ী নেতারা।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এই ক্ষমতা বেশি জুনিয়রের কাছে চলে গেলে অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এছাড়া এইচ এস কোডের (পন্য পরিচিতি নম্বর) ভুলে জরিমানা কমিয়ে আনা, টার্নওভার করের ক্ষেত্রে ঊর্দ্ধসীমা তিন কোটি টাকা করা এবং এই হার চার শতাংশ করা, শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর চার শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ৫০ লাখ টাকা থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) না হলেও বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করতে হচ্ছে, যা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়।
এর আগে বাংলাদেশ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অলাভজনক সংস্থা হিসেবে এ খাতের আয়ের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি এম এ মুবিন খান। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয় হলে কর কেন হবে না? তবে ঢাকার বাইরে মফস্বল এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেতে কর সুবিধা দেয়া যায় কিনা, সেবিষয়ে ভাবতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, অনেক সুবিধা এনবিআর যাদের উদ্দেশ্যে দেয়, তারা পায়না। বরং এ ধরণের সুবিধা অসাধু ব্যবসায়ী কিংবা একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের হাতে চলে যায়। দেখা গেল ক্ষেত্রবিশেষে সুবিধার ৯৮ শতাংশই অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি হয়ে যায়।
দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের উন্নয়নে কর প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আশ্বাস দেন তিনি।