রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি

172

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ (বাসস) : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির জন্য মানবিক সহায়তা পর্যালোচনা করতে ভার্চুয়াল দাতা সম্মেলনের সহ-আয়োজক এক যৌথ সমাপনী ঘোষণায় জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ তহবিলের ঘোষণার সঙ্গে মানবিক প্রতিক্রিয়ার প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে।’ রোহিঙ্গা জনগণ, তারা বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য যে দেশেই থাকুক না কেন তাদের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হবে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জয়েন্ট রেসপন্স প্লান এবং মিয়ানমার হিউম্যানিটেরিয়ান রেসপন্স প্লানের আওতায় ২০২০ সালে ইতোমধ্যে প্রুতিশ্রুতি দেওয়া এবং নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্থ ৬৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ব্রুনেই, কানাডা, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কোরিয়া, কুয়েত, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, রোমানিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এতে যোগ দেয়।
আগস্ট ২০১৭ সালে সহিংসতা শুরুর পর থেকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মোট প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়েছে।
এটি বাংলাদেশকে দেয়া বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের উন্নয়ন সহায়তা হিসেব প্রতিশ্রুত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গারা অস্থায়ী ভিত্তিতে এখানে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ আর মোটেও এই বোঝা বইতে পারছে না। সুতরাং তাদের শিগগির তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
‘মানবতাকে নরক থেকে বাঁচাতে জাতিসংঘের ভূমিকা মিয়ানমারের তাদের প্রতি নীতিগত পদক্ষেপেও দৃশ্যমান নয়’ বলে হতাশা প্রকাশ করে শাহরিয়ার আলম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে সহায়তার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।