মেধাসম্পদ তৈরিতে এগিয়ে থাকা দেশই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিবে : মোস্তাফা জব্বার

155

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (বাসস) : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে মেধাসম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও তার উন্নয়নই হবে বড় শক্তি।
তিনি বলেন,এ সব খাতে যে দেশ বা জাতি এগিয়ে যাবে সে দেশই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিবে। কারণ দক্ষ জনশক্তি ছাড়া ডিজিটাল বিপ্লব সম্ভব নয়, আর বাংলাদেশের জনশক্তিই হচ্ছে বড় সম্পদ।
মোস্তাফা জব্বার বৃস্পতিবার রাতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
ডিজিটাল শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার ওপর বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির ভবিষ্যত নির্ভর করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতিটি ছেলে মেয়ে মেধাবী। এ সব সোনার টুকরো ছেলে-মেয়েদের মেধাকে উপযুক্ত শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কেউ হবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পপতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ব্যাপারে আরও সচেষ্ট হওয়ার প্রয়োজন। কারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের ডিজিটাল রূপান্তর শুরু হয়ে গেছে।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন,‘প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থেকেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমরা প্রস্তুত। আমরা ২০১৮ সালে ৫ জি’র পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ৫ জি-সেবা পৌঁছে দেওয়ার পথ-নকশা ইতোমধ্যেই আমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
শিক্ষা-বিস্তারে গত এগারো বছরে প্রধাননমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ অভাবনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন,‘তবে চক-ডাস্টারের পাঠদান পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতিতে উত্তরণের কাজ আমরা শুরু করেছি মাত্র। এজন্য হয়ত কিছুটা সময় লাগবে।’
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালে রূপান্তর সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সুচিত হয় উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এই সংগ্রামের নেপথ্য কারিগর হলেন সজীব আহমেদ ওয়াজেদ।
অনুষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. হাফিজ মোঃ হাসান বাবু, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন আমাজান ওয়েব সার্ভিসের লিডার ও ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোহম্মদ মাহদী-উজ জামান এবং কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়াারিংয়ের ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম।