চট্টগ্রামে ঈদে মার্কেট-শপিংমল খুলছে না

313

চট্টগ্রাম, ৯ মে ২০২০ (বাসস) : বিভিন্নশর্তে সরকার সারাদেশে শপিংমল খোলার অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামে খুলছেনা ছোটবড় প্রায় ৩শ’ মার্কেট-শপিংমল। একই সাথে ফুটপাতেও কোনো হকার বসতে দিবে না দোকান মালিক সমিতি।
শনিবার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের সাথে চট্টগ্রাম দোকান মালিক সমিতির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে আরো জানানো হয়, অনলাইনে ক্রেতারা তাদের কেনাকাটা করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম নগরীতে সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, কল্লোল সুপার মার্কেট, আমিন সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, খুলশী কনকর্ড টাউন সেন্টার, নিউ মার্কেট, আখতারুজ্জামান সেন্টার, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট এবং লাকি প্লাজার মতো অভিজাত শপিংমল ছাড়াও ছোটবড় প্রায় তিন শতাধিক মার্কেট ও শপিংমল রয়েছে।
এরআগে শুক্রবার বিকেলে নগরীর মিমি সুপার মার্কেট চত্বরে নগরের বিভিন্ন শপিং সেন্টারের দোকান মালিক সমিতি এবং ব্যবসায়ী সমিতির সম্মিলিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ঈদ উপলক্ষে রোববার থেকে দোকান বা মার্কেট খোলার অনুমতি থাকলেও জনস্বার্থে ব্যবসায়ীরা মার্কেট বা শপিং মল খুলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।
দোকান মালিক সমিতির নেতারা জানান, সিএমপি কমিশনারের সাথে বৈঠকে গুটিকয়েক শপিং মল স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখার পক্ষে মত দিলেও, বেশিরভাগ মালিক এর বিপক্ষে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও নিজেদের রক্ষায় ও ক্রেতাদের সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে নগরীর দোকান মালিক সমিতি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোববার থেকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলবেন না। ফুটপাতেও কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করবেন না। করোনা ভাইরাস বর্তমানে সারাদেশে সামাজিক সংক্রমণে রূপ নিয়েছে। এটা খুবই মারাত্মক ভাইরাস। এটা নিয়ন্ত্রণে সবাই এগিয়ে আসবে।
চট্টগ্রাম নগরীর আখতারুজ্জামান সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাশূণ্য হয়ে পড়া এবং মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে পরিবেশ পুরোপুরি ইতিবাচক না হওয়া পর্যন্ত আগামি ৩১ মে পর্যন্ত আখতারুজ্জামান সেন্টার বন্ধ থাকবে।
জিইসির সানমার ওশান সিটি ও নাসিরাবাদের ফিনলে স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আসাদ ইফতেখার বলেন, প্রথমত আমাদের প্রস্ততি নেই। দ্বিতীয়ত করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ঈদ বাজারে মেনে চলা অসম্ভব। নিজেদের ও কর্মীদের জীবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
এদিকে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি সালেহ আহমদ সোলেমান বলেন, শুক্রবার বিভিন্ন মার্কেটের মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ৩১ মে পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সবাই একমত হয়েছেন।আজ সিএমপি কমিশনারের সাথে বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
‘প্রজন্মধারা বিপণি বিতান’ সংগঠনের মুখপাত্র শারুদ নিজাম বলেন, সবার আগে করোনা প্রতিরোধ এবং নিজের, সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচানো। তাই সরকারের অনুমতি থাকার পরও মার্কেট বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।