সিলেটে ভুট্টা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

545

সিলেট, ৪ মার্চ ২০২০ (বাসস): জেলায় এবং সিলেট অঞ্চলের অন্য জেলাগুলোতে অনাবাদী জমিতে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।চলতি বছর বিভাগের চার জেলায় মোট একহাজার নয়শ’ ৭৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াইগুণ বেশি বেশি।
সিলেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে গেছে, এ অঞ্চলের জেলাগুলোতে রবি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমি পতিত থাকে। অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আনতে ভুট্টা, সূর্যমুখী ও সরিষাজাতীয় ফসল উৎপাদনে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদেরকে প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে বীজ ও সার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিলেট অঞ্চলে ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাঁচহাজার চারশ’ ৬৭ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫২২ হেক্টর জমিতে তিনহাজার ৯৬৬ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৩৬ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ২৬১ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৩২ হেক্টর জমিতে একহাজার তিনশ’২৫ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদন হয়।
ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হামতনপুর গ্রামের পাশে ৬৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন পাশর্^বর্তি লামাইসবশপুর গ্রামের কৃষক আবজাদ হোসেন বাবুল।তিনি জানান, বিগত ৪০ বছর ধরে এইসব জমিতে কোন ফসল উৎপাদন হয়নি। সরকারি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ পেয়ে তিনি গতবছর ভুট্টা চাষ করেন। ভাল ফলন পাওয়া এ বছর তিনি জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ৬৫ বিঘা জমিতে সুপার সাইন-২৭৬০ জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন। ভুট্টার পাশাপাশি তিনবিঘা জমিতে সরিষা এবং সাথী ফসল হিসেবে মরিচ, খিরা, কুমড়া ও টমেটোসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করেছেন।
ওসমানীনগর উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শিল্পী রানী নাথ বলেন, প্রথমদিকে বাড়ি বাড়ি হেটে কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, সাড়া পাইনি। এখন মাঠ দিবসের বৈঠকে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখি। কৃষকদের সাড়া পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ওসমানীনগরের অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুমন মিয়া বলেন, অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আনতে কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।গত দু’বছর থেকে কিছু কৃষককে উৎসাহ দিয়ে ভুট্টা, সরিষা, গম, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন শুরু করেছি। ধীরে ধীরে অনাবাদী জমিতে আবাদ বাড়ছে।
প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মন ভুট্টা উৎপাদন হয় জানিয়ে কৃষক মফিজুর রহমান জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় অন্তত আট থেকে দশহাজার হাজার টাকা আয় হবে।
ভুট্টা চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে জানিয়ে সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, জমিতে ভুট্টা থাকতেই পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা সেগুলো কেনার জন্য কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করেন। এ কারণে ভুট্টা বিক্রি আর ন্যায্যমূল্যের জন্য কৃষকদের দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না ।
সিলেট জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ভুট্টা চাষের সুবিধা হচ্ছে- উচু ও নিচু জমি সবধরণের জমিতে আবাদ করা যায়। খুব-বেশি পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত পরিচর্যায় ভুট্টার ভাল ফলন হয়। ভুট্টার পুষ্টিগুণও অনেক বেশি।
ভুট্টা চাষ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর, সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষিবিদ মজুমদার মো. ইলিয়াস বলেন, ভুট্টার পুষ্টিগুণ ধানের চেয়ে বেশি। আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, তারাও আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চাষযোগ্য অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আসছে।

image_printPrint