বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি) : আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

194

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি)
প্রধানমন্ত্রী-বই-মেলা
আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধু চীনের বিকাশের চালচিত্র ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তিনি পূর্ববাংলার মানুষের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরেই জাতির পিতা চীন গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তবে তিনি এ (নির্যাতন) সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেননি, বরং তিনি বলেছিলেন দেশে যা কিছু ঘটছে, ঘটছে। কিন্তু বিদেশে এসে আমরা দেশের সমালোচনা করতে পারি না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে আজ আমরা দেখতে পাই, আমাদের দেশে অনেকে বিদেশিদের কাছে অভিযোগ করতে গিয়ে অতি উৎসাহিত হয়ে যা ঘটেনি তাও বেশি করে বলে।… আমরা এই প্রবণতাটি দেখি (কিছু লোকের মধ্যে)।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বইটি পড়লে মানুষ নতুন চীন সম্পর্কে অনেক কিছু উপলব্ধি করতে পারবে এবং জানতে পারবে। তিনি বলেন, চীন সফরের পরে বঙ্গবন্ধু চীন সম্পর্কে যা কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আজকের চীন ধীরে ধীরে সেই অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি সম্মেলনের ছবি, মনোগ্রাম এবং তথ্য সংগ্রহ করে বইটি প্রকাশে সহায়তার জন্য কবি তারিক সুজাতকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা ২১শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে তার সরকার এবং কানাডা প্রবাসী কিছু বাংলাদেশীর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
কানাডা প্রবাসী প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের প্রচেষ্টা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক চেষ্টার কারণে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১ নভেম্বর ২১ শে ফেব্রুয়রিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রধানমন্ত্রী ‘আমার একুশে গ্রন্থমেলা’ আয়োজনে জড়িত বাংলা একাডেমি এবং দেশি-বিদেশি প্রকাশকসহ সকলকে শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ অনুসরণ করে ১৯৫৫ সালে ৩ রা ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। একুশে গ্রন্থমেলাটি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
বাংলা একাডেমি সূত্র জানায়, এ বছর মেলার জন্য নির্ধারিত জমিটি ৮,০০,০০০ বর্গফুটে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মোট ৮৭৩ টি ইউনিট ৫৬০ সংস্থাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ১২৬ টি প্রতিষ্ঠানকে বাংলা একাডেমি মাঠে ১৭৯টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬৯৪ টি ইউনিট ৪৩৪ সংস্থাকে বরাদ্দ এবং মোট ৩৪ টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ করা হয়েছে।
মেলা রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে; এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১১ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি, মেলা সকাল ৮ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
বাসস/এসএইচ/অনু-এইচএন/২১৪৮/কেএমকে