বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (দ্বিতীয় কিস্তি) : আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

190

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (দ্বিতীয় কিস্তি)
প্রধানমন্ত্রী-বই-মেলা
আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা এখন কেবল বই কেনা- বেচার কেন্দ্র নয়,এটি বাঙালির প্রাণের মেলাও।
তিনি বলেন, ‘বই মেলা উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাঙালিরা দেশে আসেন। বিদেশী নাগরিকরাও বইয়ের প্রতি বাঙালির নজিরবীহিন ভালবাসা প্রত্যক্ষ করতে বাংলাদেশ সফর আসেন।’
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তিনি ছাত্রজীবনে বইমেলায় ঘণ্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘তবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় এখন আমার সেই স্বাধীনতা নেই।’
প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উপলক্ষে এখানে আসার সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন : ‘আমরা দ্রুত এগিয়ে চলেছি এবং আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে সম্মান অর্জন করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন কেউই আর বাংলাদেশকে অবহেলার চোখে দেখতে পাবে না কারণ তার সরকার গত ১০ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় যে, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা বাংলাদেশকে কেউ খাটো করে দেখবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটি বিজয়ী জাতি এবং আমরা মাথা উঁচু করে ও বিজয়ের চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং বিশ্ব মঞ্চে বাংলা ভাষাকে উপস্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৫৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, বাংলার ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের দাবির আন্দোলন এবং ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ায় বঙ্গবন্ধুকে কারাভোগ করতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আতাউর রহমান, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রমুখ পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল ১৯৫২ সালে এক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে চীন সফর করেছিলেন।
‘আমার দেখা নয়া চীন’ শিরোনামের বঙ্গবন্ধুর বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সম্মেলনে জাতির পিতা প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন।
বইটিতে জাতির পিতা, নতুন চীনের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এমনকি শিশুসহ জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথাও বর্ণনা করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শুধু চীনে পর্যটক হিসেবেই সফর করেন নি বরং তিনি বিভিন্ন বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বইটিতে আমরা তাঁকে পর্যটক, পর্যবেক্ষক এবং একজন সমালোচক হিসেবে পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে আড়াই বছর কারান্তরীণে রাখার পরে তিনি চীন সফরে গিয়েছিলেন।
এদিকে বাংলা একাডেমির মহা-পরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুর সবক’টি বই নিয়ে একটি রচনা সামগ্রী বের করবে।
চলবে-বাসস/এসএইচ/অনু-কেজিএ/২১২০/-আসাচৌ