‘যত্ন’ কার্যক্রম রংপুর ও ময়মনসিংহের হতদরিদ্র পরিবারগুলোতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে

658

ঢাকা, ২৪ সেপ্টম্বর ২০১৯ (বাসস) : দেশের হতদরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুর পুষ্টি এবং মনোদৈহিক বিকাশে মা ও শিশুর কল্যাণে যতœ নামের একটি প্রকল্প কার্যক্রম ৭টি জেলার ৪৪৩টি ইউনিয়নে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। প্রকল্পটি এই দু’জেলার ৬ লাখ মা ও শিশুর কল্যাণে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুর পুষ্টি এবং মনোদৈহিক বিকাশে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের ফলে মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে এবং উক্ত পরিবারের উপার্জন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ৬ লাখ নারী শিশু এবং তাদের পরিবার দারিদ্র্য হতে মুক্তি লাভ করবে। উপকারভোগী মায়েদেরকে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের ফলে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সমাজে নারীদের আতœ-নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে, একই সাথে দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নে, কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়নে, লালমনিরহাটের ১টি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে এবং নীলফামারী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ মোট ১৮টি উপজেলা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার ১৪৬টি ইউনিয়নে, জামালপুরের ৭টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে এবং শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নে এই প্রকল্প কার্যক্রম চলতি মাসেই শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুয়োরেস্ট (আইএসপিপি) যতœ নামের এই প্রকল্পটি ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তথ্য না পাওয়ার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এরমধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। বাকী ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা জিওবি তহবিল থেকে ব্যয় হবে বলে উপপ্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪৪৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে বিকল্প উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালু হয়েছে। রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলায় অতিদরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শূন্য থেকে ৬০ মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টি ও মনোদৈহিক বিকাশ সাধন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ নারী-শিশু উপকৃত হবে। সঠিক সময়ে তথ্য না পাওয়ার কারণে এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুরু করা করা যায়নি।
অতিদরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সী প্রথম ও দ্বিতীয় শিশু এবং তাদের মা যারা ৪ বার স¦াস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রতিবার ২০০টাকা করে মোট ৮০০ টাকা, জন্মের পর দু’বছর পর্যন্ত ওজন ও উচ্চতা পরিমাপের জন্য প্রতিমাসে ৫০০ টাকা এবং দু’বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুর ওজন ও উচ্চতা মাপের জন্য ১০০০ টাকা করে দেয়া হবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক এই প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনায় বিকল্প উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকল্প পুরোদমে কার্যক্রম চালু করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি রয়েছে এবং প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক, উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেতৃত্বে ইউনিয়ন কমিটি এই প্রকল্প উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব পালন করবে।

image_printPrint